খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
শীত এখনও শুরু না হলেও রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। সকালে নাশতা কিংবা রাতে খাবার রান্না—কোনো সময়ই পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না, যার ফলে ঢাকাবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎচালিত হিটার বা এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন, যা পরিবারের খরচ কয়েকগুণ বাড়াচ্ছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এক মাসের বেশি সময় ধরে গ্যাসের চাপ কম। দিনে খুব কম সময়ই রান্নার জন্য যথেষ্ট গ্যাস পাওয়া যায়। চুলায় রান্না করতে বসলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দিতে হয়।
ঢাকা কলেজের আখতারুজ্জামান ইলিয়াস আবাসিক হলের ম্যানেজার হেলাল উদ্দিন বলেন, “হোস্টেলের রান্নার কাজে গ্যাসের চুলা ব্যবহার করি। এক মাস ধরে চুলা জ্বলে না, বাধ্য হয়ে কাঠ দিয়ে রান্না করছি। এমন পরিস্থিতি আগে কখনো দেখিনি।”
মিরপুরের বাসিন্দা ইতি আক্তার বলেন, “সকাল ৮টার পর গ্যাস পাওয়া প্রায় অসম্ভব। ভোরে উঠেও রান্না করা কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”
গ্যাসের কম সরবরাহের কারণে অনেকেই বৈদ্যুতিক হিটার ও সিলিন্ডারে নির্ভর করছেন, যা বাড়তি খরচের কারণ। খিলগাঁও এলাকার জেসমিন বলেন, “প্রতি মাসে গ্যাসের বিল দিতে হয়, তবু সময়মতো রান্না করতে না পারায় বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। অল্প আয়ের পরিবারের জন্য এটি বড় সমস্যা।” যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা ইসরাফিল আলম যোগ করেন, “গ্যাস নেই, তবু বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। দুদিক থেকেই খরচ বাড়ছে।”
বেড়েই চলেছে ‘সিস্টেম লস’
গ্যাস সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় উৎপাদিত বা আমদানি করা গ্যাসের পরিমাণের সঙ্গে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি হওয়া গ্যাসের পার্থক্যকে সিস্টেম লস বলা হয়। ঢাকায় গ্যাস সরবরাহকারী তিতাসের সিস্টেম লস বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে সিস্টেম লস ছিল ৩০৮.৩২ মিলিয়ন ঘনমিটার (এমএমসিএম), যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে ১ হাজার ৭৯৬ এমএমসিএমে পৌঁছেছে।
ক্যাবের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, “গ্যাস চুরি ও অপচয় হচ্ছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মানুষকে এলপিজি কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। রাষ্ট্রের মালিকানাধীন তিতাস এসব করছে, অথচ দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”
তিতাসের অপারেশন ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান জানালেন, “এখন গ্যাসের সরবরাহ কম, আমরা পাচ্ছি ১৫৫০ এমএমসিএফ, কিন্তু চাহিদা ১৯০০ এমএমসিএফের বেশি। শীতকালে এলএনজি কার্গো কম আসবে, স্থানীয় উৎপাদনও কম। বিদ্যুৎ খাতে লোডও কমানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারি অগ্রাধিকার অনুযায়ী প্রথমে বিদ্যুৎ খাত, এরপর সার, শিল্প, ক্যাপটিভ, এবং অবশেষে আবাসিক খাতকে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। ঢাকায় এই মুহূর্তে আবাসিক সরবরাহ কম হচ্ছে।”
চলতি বছরের সমস্যার সমাধান সরকারের ওপর নির্ভর করছে। সাইদুল হাসান বলেন, “সরকার যদি বেশি গ্যাস সরবরাহ করে আবাসিক খাতে বাড়ানোর নির্দেশ দেয়, আমরা তা বাড়াব। অন্যথায় এই সংকট চলতেই পারে।”