খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনায় দগ্ধ সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাভিদ সুস্থ হয়ে ৯৭ দিন পর বাড়ি ফিরেছে। চিকিৎসা চলাকালীন তার ৩৬টি অস্ত্রোপচার করা হয় এবং ২২ দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) থাকতে হয়। সোমবার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
ইনস্টিটিউটের যুগ্ম পরিচালক ডা. মারুফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ২১ জুলাই ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নাভিদের শরীরের ৪৫ শতাংশ পুড়ে যায়। সিএমএইচ থেকে পরদিন তাকে বার্ন ইনস্টিটিউটে আনা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরপর দুইবার তার পরিবারকে দুঃসংবাদের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছিল।
চিকিৎসকরা হাল না ছাড়ায় অবশেষে সুস্থ হয় নাভিদ। তিনি মোট ২২ দিন আইসিইউতে ছিলেন, যার মধ্যে ১০ দিন ছিলেন লাইফ সাপোর্টে।
৩৫ দিন হাইডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) থাকার পর আরও ৪০ দিন কেবিনে চিকিৎসা নেওয়ার পর সোমবার তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
ডা. মারুফুল ইসলাম আরও বলেন, নাভিদের মোট ৩৬ বার ছোট-বড় সার্জারি হয়েছে। শরীরের ক্ষতস্থানে ৮ বার চামড়া প্রতিস্থাপন করা হয়। এই ঘটনায় অন্য কোনো দগ্ধ রোগীর এত সংখ্যক সার্জারি লাগেনি।
বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনায় পুড়ে যাওয়ার পর নাভিদের ফুসফুসে পানি জমে গিয়েছিল। এজন্য তাকে লাইফ সাপোর্টে উপুড় করে চিকিৎসা দিতে হয়েছে, যা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। ওই ঘটনায় দগ্ধ আরও পাঁচ শিক্ষার্থী এখনো ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত ২১ জুলাই দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বিতীয় তলায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান আছড়ে পড়ে। ওই দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হন এবং ১৫০ জন আহত হন, যাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী।
খবরওয়ালা/টিএসএন