খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
সাম্প্রতিক সময়ে দম্পতিদের মধ্যে ‘স্লিপ ডিভোর্স’ বা আলাদা ঘরে ঘুমানোর প্রবণতা বাড়ছে। অনেকে মনে করেন, এতে ঘুমের মান উন্নত হয়, ক্লান্তি ও ঝগড়া কমে।
স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোতে আবার একই বিছানায় দুটি আলাদা কম্বল ব্যবহারের চলও জনপ্রিয় হয়েছে। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এমন ঘুমের ধরন সব সময় সম্পর্কের জন্য ভালো নয়—বরং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) ফক্স নিউজ জানায়, তাইওয়ানের উত্তরাঞ্চলে ৮৬০ জন বয়স্ক দম্পতিকে নিয়ে পরিচালিত এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘বিএমসি পাবলিক হেলথ’ সাময়িকীতে। গবেষকেরা সুখ, জীবনে সন্তুষ্টি ও মানসিক পরিপূর্ণতার সঙ্গে ঘুমের ধরন ও অবস্থানের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেন।
ফলাফলে দেখা যায়—যেসব দম্পতি আলাদা ঘরে ঘুমান, তাঁদের মানসিক সুস্থতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল। গবেষকদের মতে, বয়সে প্রবীণ দম্পতিদের ক্ষেত্রে একই বিছানায় একসঙ্গে ঘুমানো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী। তাঁদের ভাষায়, ঘুমানোর স্থান কেবল শারীরিক বিষয় নয়—এটি ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক উপাদান’, যা দাম্পত্য সুখে প্রভাব ফেলে।
বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের র্যান্ড করপোরেশনের ঘুম-বিশেষজ্ঞ ড. ওয়েন্ডি ট্রোক্সেল বলেন, “ঘুমের ধরন ও সম্পর্কের মানসিক ঘনিষ্ঠতার মধ্যে গভীর যোগসূত্র রয়েছে।” তাঁর মতে, আলাদা ঘুমানো অনেক সময় সম্পর্কের মানসিক দূরত্বের ফল, আবার কখনো সেটি সেই দূরত্বের কারণও হতে পারে।
ড. ট্রোক্সেল আরও ব্যাখ্যা করেন, “বয়স্কদের প্রায় অর্ধেকেরই ঘুমে বিঘ্ন বা অনিদ্রার সমস্যা থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গভীর ঘুম কমে, রাতের ঘুম বারবার ভাঙে। একাকিত্ব, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা ঘুমের মান আরও খারাপ করে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়—এ যেন এক অবিরাম চক্র।”
তাঁর মতে, সবার জন্য এক ধরনের ঘুমের রুটিন কার্যকর নয়। “কারও জন্য একসঙ্গে ঘুমানো নিরাপত্তা ও ঘনিষ্ঠতার প্রতীক, আবার কারও জন্য আলাদা ঘুমানোই স্বাস্থ্যকর হতে পারে,” বলেন ট্রোক্সেল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—দম্পতিদের পারস্পরিক সম্মতিতে ও খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে ঘুমের ধরন নির্ধারণ করা।
তিনি আরও জানান, একসঙ্গে ঘুমানো বা জড়িয়ে শোওয়া শরীরে ‘অক্সিটোসিন’ হরমোন নিঃসরণ ঘটায়, যা ভালোবাসা, নিরাপত্তা ও গভীর ঘুমকে বাড়ায়। তবে নাক ডাকা, অতিরিক্ত নড়াচড়া বা শরীরের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে যদি কারও ঘুম ব্যাহত হয়, সেটি সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
ড. ট্রোক্সেলের পরামর্শ, যারা আলাদা ঘুমান, তাঁরা ঘুমানোর আগে একসঙ্গে কিছু সময় কাটাতে পারেন—আলাপ, হাসি বা বই পড়ার মাধ্যমে আবেগের সংযোগ বজায় রাখা সম্ভব।
সবশেষে তিনি বলেন, “সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর ঘুমের ধরন সেটিই, যা একসঙ্গে মানসম্মত ঘুম, আবেগের সংযোগ ও দীর্ঘমেয়াদি সুখ নিশ্চিত করে।”
খবরওয়ালা/আশ