খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ায় যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ছাত্রদল কর্মী মো. সাজ্জাদকে (২৩) গুলি করে হত্যার ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকা ও আশপাশের উপজেলাগুলোয় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সবুজ ইসলাম মিরাজ, সাইদুল ইসলাম, এমরান হোসেন সাগর, তামজিদুল ইসলাম সাজু, মো. আরাফাত, জিহান, ওসমান ও দিদারুল আলম রাসেল। এর মধ্যে প্রথম ছয়জন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তদন্তে ওসমান ও রাসেলের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটজনই যুবদল ও ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িত।
গত সোমবার রাতে বাকলিয়ার সৈয়দ শাহ রোডের মদিনা আবাসিক এলাকার সামনে এক্সেস রোডে ব্যানার নামানো নিয়ে যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময় হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ছাত্রদল কর্মী সাজ্জাদ নিহত হন, আহত হন অন্তত ১৩ জন।
নিহত সাজ্জাদ কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মো. আলমের ছেলে। তিনি বাকলিয়ার তক্তারপুল এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের অনুসারী এবং যুবদলের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশা গ্রুপের কর্মী ছিলেন তিনি।
হত্যাকাণ্ডের পর মঙ্গলবার রাতে সাজ্জাদের বাবা মোহাম্মদ আলম বাকলিয়া থানায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩৫–৪০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার অন্যতম আসামি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী এহতেশামুল হক ওরফে ভোলা, যিনি সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলারও আসামি।
বাকলিয়া থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করে। মামলার এজাহারে নাম থাকা ছয়জনসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও আলামত বিশ্লেষণ করে তাদের শনাক্ত করা হয়।”
গ্রেপ্তার আটজনই চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গাজী সিরাজের অনুসারী হিসেবে পরিচিত বলে জানিয়েছে পুলিশের একাধিক সূত্র।
খবরওয়ালা/আশ