খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যযুদ্ধ প্রশমনের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।
বৈঠকে উভয় দেশই কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর দাবি করেছে, যা বৈশ্বিক বাজারে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ট্রাম্প ও সি এক বছরের জন্য নতুন বাণিজ্যচুক্তিতে সম্মত হন। এতে যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যে আরোপিত কিছু শুল্ক কমাবে এবং চীন যুক্তরাষ্ট্রে বিরল খনিজ সরবরাহ অব্যাহত রাখবে। ছয় বছর পর দুই নেতার এ মুখোমুখি সাক্ষাৎ ছিল প্রথম।
বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয়, এটা ছিল এক অসাধারণ বৈঠক।” তিনি সিকে ‘অত্যন্ত শক্তিশালী দেশের অসাধারণ নেতা’ হিসেবে প্রশংসা করেন এবং আগামী এপ্রিল মাসে চীন সফরের ঘোষণা দেন।
কৃষিপণ্য ও খনিজে নতুন চুক্তি
ট্রাম্প জানান, আলোচনার অংশ হিসেবে চীন বিপুল পরিমাণ সয়াবিন ও অন্যান্য কৃষিপণ্য কিনতে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিভিত্তিক অঞ্চলে এটি ট্রাম্পের সমর্থন পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তাছাড়া, উভয় দেশ চীনের বিরল খনিজ সরবরাহ নিয়ে এক বছরের চুক্তিতে পৌঁছেছে, যা উন্নত ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ উৎপাদনে অপরিহার্য। বেইজিংয়ের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও কিছু রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ট্রাম্প বলেন, “সব বিরল খনিজের বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে।”
ফেন্টানিল নিয়ন্ত্রণে চীনের প্রতিশ্রুতি
বৈঠকে সি চিন পিং যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ওপিওয়েড ফেন্টানিলের প্রবাহ রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ট্রাম্প জানান, এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করছেন। দক্ষিণ কোরিয়া ছাড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “আলোচনার ফলাফল নিয়ে আমাদের কৃষকেরা খুবই খুশি হবেন।” তিনি আরও জানান, চীন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কেনা শুরু করবে, যার মধ্যে আলাস্কার তেল ও গ্যাসও থাকতে পারে।
প্রযুক্তি ও অংশীদারিত্ব
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ, বিশেষ করে এনভিডিয়া–নির্মিত চিপের বাণিজ্য নিয়েও আলোচনা হয়। দুই পক্ষের প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে ট্রাম্প হাত নাড়িয়ে সমর্থকদের অভিবাদন জানিয়ে এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়ে বসেন, আর সি তাঁর লিমুজিনে ফিরে যান।
‘অংশীদার ও বন্ধু’ হতে চায় চীন
বৈঠক শুরুর আগে সি বলেন, *“চীন ও যুক্তরাষ্ট্র বৃহৎ দেশ হিসেবে দায়িত্ব যৌথভাবে বহন করতে পারে এবং বিশ্বের কল্যাণে আরও বড় সাফল্য অর্জনে একসঙ্গে কাজ করতে পারে।” দুই নেতার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ কোরিয়ার গিয়ংজু শহরে চলমান এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনের ফাঁকে। সম্মেলনে জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার নেতারাও অংশ নেন।
এটি ছিল ট্রাম্পের এশিয়া সফরের শেষ ধাপ। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া ও জাপান সফর করেন। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উনের সঙ্গে সাক্ষাতের আশায় থাকলেও তা হয়নি। ট্রাম্প বলেন, তাইওয়ানের ইস্যু বৈঠকে তোলা হয়নি। তবে তিনি আশা করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে গড়ে ওঠা এই নতুন বোঝাপড়া ভবিষ্যতে বিশ্ব অর্থনীতিতে “গৌরবময় সাফল্য” বয়ে আনবে।
খবরওয়ালা/আশ