খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
বিলাসবহুল জীবন, শতবর্ষী ঐতিহ্য আর রাজকীয় আভিজাত্যে ঘেরা ব্রিটিশ রাজতন্ত্র।
কিন্তু এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে প্রতিবছর জনগণের করের টাকা খরচ হয় বিপুল পরিমাণে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের রাজতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে বছরে খরচ হচ্ছে প্রায় ৫১ কোটি পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৭০০০ কোটি টাকা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, রাজপরিবার প্রতিবছর রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে কোটি কোটি পাউন্ড পায় ‘সোভেরেইন গ্রান্ট’ নামে বরাদ্দ হিসেবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই অনুদান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ২১ লাখ পাউন্ডে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড বেশি।
এই অর্থের বড় অংশ ব্যয় হয় রাজা চার্লস ও রাজপরিবারের সরকারি দায়িত্ব, ভ্রমণ, কর্মচারীদের বেতন এবং রাজকীয় বাসভবন রক্ষণাবেক্ষণে। বাকিংহাম প্যালেসের চলমান সংস্কার প্রকল্পেই বরাদ্দ রাখা হয়েছে কয়েক কোটি পাউন্ড।
তবে এটি রাজপরিবারের একমাত্র আয় নয়। তাঁরা আয় করেন ‘ক্রাউন এস্টেট’ নামের বিশাল সম্পত্তি থেকে, যার মধ্যে রয়েছে লন্ডনের রিজেন্ট স্ট্রিটসহ মূল্যবান ভূমি ও উপকূলবর্তী এলাকা। এই সম্পত্তি রাজার নামে হলেও তা সরকারের অধীনে পরিচালিত হয়, এবং এর মুনাফার একটি অংশ রাজপরিবার পায়।
এছাড়া রাজা চার্লস ব্যক্তিগতভাবে আয় করেন ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টার নামের এস্টেট থেকে, যার বার্ষিক মুনাফা প্রায় ২ কোটি ৪৪ লাখ পাউন্ড। অন্যদিকে তাঁর পুত্র প্রিন্স উইলিয়াম পান ডাচি অব কর্নওয়াল থেকে আয়, যার মুনাফা প্রায় ২ কোটি ২৯ লাখ পাউন্ড।
রাজপরিবারের এই বিপুল ব্যয়ের সমালোচনাও রয়েছে। গণতান্ত্রিক সংগঠন ‘রিপাবলিক’ দাবি করেছে, রাজতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে জনগণের পকেট থেকে বছরে খরচ হয় প্রায় ৫১ কোটি পাউন্ড। যার মধ্যে নিরাপত্তা, প্রটোকল ও সরকারি আয়োজনের ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে, রাজপ্রাসাদ বলছে, রাজপরিবারের উপস্থিতি ও রাজতান্ত্রিক ঐতিহ্য যুক্তরাজ্যের পর্যটন, দাতব্য কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক মর্যাদায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
খবরওয়ালা/আশ