খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশে কিডনি চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক নাম সব কিছুর উপরে দাঁড়ায়—সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রফেসর ড. কামরুল ইসলাম। আগামী শুক্রবার (৩ নভেম্বর) তিনি একটি বিরল মাইলফলক স্পর্শ করবেন, যখন তিনি তার ১,৮০০তম কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন করবেন, যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত এই চিকিৎসক বিশ্ব কিডনি দিবসে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের সংখ্যা জাতীয় চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তার মতে, প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হলো দক্ষ প্রতিস্থাপন বিশেষজ্ঞদের ঘাটতি, ওষুধের উচ্চ মূল্য, আইনি জটিলতা এবং মৃতদেহ থেকে অঙ্গ দানের বিষয়ে জনসচেতনতার অভাব।
ড. কামরুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ১০,০০০ জন মানুষকে কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়, তবে বাস্তবে মাত্র ৩৬৫টি অপারেশন সম্পন্ন হয়, যা মোট চাহিদার মাত্র ৩.৬৫%। গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিস্থাপনের এক বছর পর রোগীদের ৯৬% সুস্থ থাকে, তবে দশ বছরের মধ্যে অর্ধেক রোগী মারা যায়, বেশিরভাগই সংক্রমণের কারণে, কিডনি ব্যর্থতার কারণে নয়। বর্তমানে দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ কিডনি রোগী রয়েছে, যার মধ্যে ৪০,০০০ জন ডায়ালাইসিসে নির্ভরশীল।
ড. ইসলাম জোর দিয়ে বলেছেন, প্রতিস্থাপনকৃত রোগীদের “শিশুর মতো” অতিরিক্ত যত্নের প্রয়োজন, কারণ সামান্য সংক্রমণও প্রাণঘাতী হতে পারে। তার অসাধারণ প্রতিশ্রুতির কারণে ইতিমধ্যেই অসংখ্য জীবন রক্ষা হয়েছে, যা তাকে বাংলাদেশে সহমর্মিতা ও চিকিৎসা উৎকর্ষতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।