৫ মাস পর ইরানে হামলার দায় স্বীকার করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে প্রথম ইসরায়েলি হামলার দায় স্বীকার করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি আগের মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্যের বিপরীতে দাঁড়ালেন, যেখানে বলা হয়েছিল—ইসরায়েল এককভাবে এই হামলা চালিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প বলেন, ‘ইসরায়েল প্রথমে আক্রমণ চালায়। সেই হামলাটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। আমি সেই সময় পুরো বিষয়টির দায়িত্বে ছিলাম।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘যখন ইসরায়েল ইরানে প্রথম হামলা চালায়, তা ইসরায়েলের জন্য এক মহাদিবস ছিল। সেই হামলায় যত ক্ষতি হয়েছিল, পরবর্তী সব হামলার ক্ষতির সমান হয়নি।’

ট্রাম্প রিপাবলিকানদের প্রতি আহ্বান জানান, সিনেটে আইন পাসের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে বিল অনুমোদনের পথ খোলা উচিত। তিনি বলেন, যেমনভাবে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল, রিপাবলিকানদেরও তেমন দৃঢ়তার সঙ্গে সিনেটের নিয়ম পরিবর্তন করতে হবে।

গত ১৩ জুন ইসরায়েল কোনো প্রত্যক্ষ উসকানি ছাড়াই ইরানে ব্যাপক হামলা চালায়। এতে দেশটির কয়েকজন জেনারেল, পারমাণবিক বিজ্ঞানী ও অসংখ্য সাধারণ মানুষ নিহত হন। জবাবে ইরান ইসরায়েলের দিকে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।

এরপর যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে—ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। তবে যুদ্ধ শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ে ওয়াশিংটন জানিয়েছিল, তারা এই হামলায় সরাসরি যুক্ত নয় এবং ইরানকে সতর্ক করে দিয়েছিল যেন মার্কিন সেনা বা স্বার্থের ওপর প্রতিশোধ না নেয়।

সেই সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘আজ রাতে ইসরায়েল একতরফাভাবে ইরানে হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এ অভিযানে যুক্ত নয়। আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা।’

ইরান পরবর্তীতে কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।

ট্রাম্প সেই সময় থেকেই এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্যের কৃতিত্ব দাবি করে আসছেন। তিনি বারবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করেছে। তবে বৃহস্পতিবারের বক্তব্যে তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে দাবি করলেন—যুদ্ধের সূচনাতেই তিনি নেতৃত্বে ছিলেন।

তেহরান এখনও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রকাশ করেনি। তবে ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, বহু বছরের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে টিকিয়ে রেখেছে। দেশটির মজুত উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়ামের বর্তমান অবস্থার তথ্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প নিজেকে ‘শান্তির প্রার্থী’ হিসেবে উপস্থাপন করে নতুন যুদ্ধ শুরুর বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু ইরান যুদ্ধের সময় তার নিজ দলের কিছু অংশ তাকে চাপ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি যুদ্ধে না জড়ানোর জন্য।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে এমন চুক্তি চান, যার মাধ্যমে তেহরান ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপন করবে। দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুর দিকে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছিলেন। যদিও এখন এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রশাসনে এখন ইরান নিয়ে নতুন আলোচনার কোনো তাগিদ নেই। অন্যদিকে, তেহরানও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রস্তাব নিয়ে সন্দিহান। ইসরায়েলি হামলার কয়েক দিন আগে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।

খবরওয়ালা/টিএসএন

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।