খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হলে ব্যয় কম হবে। অথচ তারা আগে গণভোট চায়, কারণ আগে ভোট হলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে, তারা টিকতে পারবে না।’
রবিবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দৌলতপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জগন্নাথপুর ইউনিয়নবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, গত ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগ প্রমাণ করেছে যে তাঁর দলের কর্মী ও দেশের জনগণের প্রতি কোনো দরদ ছিল না। তিনি কর্মীদের অসহায় অবস্থায় রেখে গেছেন। ফখরুল বলেন, ‘এই মাটিতেই আমাদের জন্ম, এই মাটিতেই থাকি, এখানেই সুখ-দুঃখে বাঁচব, আর মরলে এই মাটিতেই মরব। দেশের মাটি ছেড়ে কখনো যাব না।’
ব্যক্তিগত ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি বহু কষ্ট করেছি। আপনারা জানেন, আমি ১১ বার জেলে গেছি। পুলিশ আমাকে পাঁচ দিন ধরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সেলে রেখেছিল। আপনাদের দোয়ায় এবং আল্লাহর রহমতে আমি মুক্তি পেয়েছি।’
খালেদা জিয়ার প্রতি হওয়া অন্যায়ের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রীকে ছয় বছর বিনা দোষে কারাগারে রাখা হয়েছে। আমাদের ৬০ লাখ কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।’
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘সামনে নির্বাচন। আপনারা ভোট দেবেন তো? এবার ভোটব্যবস্থা ঠিক আছে তো? সবাই ভোট দিতে পারবেন তো?’ ইতিবাচক সাড়া পেয়ে তিনি বলেন, ‘এবার মার্কা কয়টা? একটাই মার্কা—ধানের শীষ। নৌকা দেখা যাচ্ছে না। দাঁড়িপাল্লাও নির্বাচনে আছে। সুতরাং আপনাদের ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লার মধ্যে বেছে নিতে হবে।’
দেশের অর্থনৈতিক সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ধানে-আলুতে এবার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত। আলু হিমাগারে আছে, বের করছে না। কৃষিকাজ করে লাভ হচ্ছে না।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার মানুষের কষ্ট বোঝে না। বিএনপি সরকারে এলে কৃষক ও মায়েদের জন্য দুটি বিশেষ কার্ড চালু করা হবে। প্রতিটি মা এই কার্ডে ন্যায্যমূল্যে চাল, ডাল, তেল, লবণ কিনতে পারবেন ও স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। প্রতিটি কৃষকের জন্যও কার্ড থাকবে, যাতে তিনি ন্যায্যমূল্যে সার, বিষ, পানি ও ফসলের বাজার পেতে পারেন।’
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একটি দল বলছে, নির্বাচনের আগে গণভোট হতে হবে। এই সাধারণ মানুষ কি এসব বোঝে?’ উপস্থিত জনতার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘গণভোট, সনদ—এইসব কি আমরা বুঝি? না। শিক্ষিত কিছু লোক এসব এনে আমাদের ঘাড়ে চাপাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপির সংস্কার প্রস্তাবগুলোর অনেকগুলোতেই তারা রাজি, তবে পার্লামেন্টে যেতে রাজি নয়। অথচ পার্লামেন্টেই তর্ক, ভোটাভুটি ও আইন পাস হয়।’
গণহত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ও জুলাই মাসে ছাত্রদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও গণহত্যা হয়েছিল। পার্থক্য শুধু একটাই—তখন পাকিস্তানি বাহিনী স্থানীয় দোসরদের নিয়ে করেছিল, আর এবার শেখ হাসিনা তাঁর প্রশাসন দিয়ে তা করেছে।’
খবরওয়ালা/টিএসএন