খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
দিল্লিতে বিস্ফোরণের পর ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী কাশ্মীরে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহে ২০০টিরও বেশি স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে এবং কয়েকশ সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে।
কাশ্মীরে কথিত ‘সশস্ত্র সমর্থন নেটওয়ার্ক’ ভাঙার উদ্দেশ্যে স্থানীয় পুলিশ ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে। বুধবার এক বিবৃতিতে পুলিশ জানিয়েছে, জামাত-ই-ইসলামী (জেইআই) সদস্যদের লক্ষ্য করে একযোগে ২০০টিরও বেশি স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। সংগঠনটি ২০১৯ সাল থেকে ভারতে নিষিদ্ধ।
জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের একজন মুখপাত্র জানান, বুধবার কুলগাম জেলায় একদিনেই ২০০টিরও বেশি স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। গত চারদিনে দক্ষিণ কাশ্মীর জুড়ে ৪০০ বার কর্ডন ও সার্চ অপারেশন পরিচালিত হয়েছে।
এই অভিযান এমন সময়ে চালানো হচ্ছে, যখন ফারিদাবাদ ও সাহারানপুর থেকে কাশ্মীরি সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগে একটি সন্ত্রাসী চক্র ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া দিল্লির লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলওয়ামার বাসিন্দা ডা. উমর নাবিকে সন্দেহভাজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান অভিযানের সঙ্গে ওই ঘটনার সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ও এর তৃণমূল কাঠামো ভেঙে ফেলার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে জেইআই সদস্য ও তাদের সহযোগীদের বাড়ি ও কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়েছে।”
কুলগাম জেলায় অভিযানের পর নিষিদ্ধ সংগঠন জেইআই ও অন্যান্য গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রায় ৫০০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে বহুজনকে প্রতিরোধমূলক আইনে অনন্তনাগ জেলার মাট্টান কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
একই দিনে উত্তর কাশ্মীরের সোপোর জেলাজুড়ে ৩০টির বেশি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, “বিচ্ছিন্নতাবাদী নেটওয়ার্কের উপস্থিতি” থাকার কারণে অভিযানটি পরিচালিত হয়েছে এবং কয়েকজনকে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গান্দারবাল ও আওয়ান্তিপোরায়ও জামাত-ই-ইসলামীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে, এসব স্থানে বিপুল পরিমাণ “অপরাধমূলক দলিল, ডিজিটাল ডিভাইস ও নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছাপানো উপকরণ” উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই অভিযান “সন্ত্রাসবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদী কাঠামো ভাঙতে এবং তাদের আর্থিক, আদর্শিক ও লজিস্টিক যোগসূত্র কেটে দিতে” গৃহীত দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
গত এক সপ্তাহে উপত্যকাজুড়ে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস