খাবর ওয়ালা অনলাইন দেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও পেসার জাহানারা আলম এক গুরুতর যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন, যা বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটি বিতর্কিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার অভিযোগ, ২০২২ সালের নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপ চলাকালে দলের কয়েকজন কর্মকর্তার অশোভন আচরণের শিকার হয়েছেন তিনি।
জাহানারা আলম সম্প্রতি ক্রীড়া সাংবাদিক রিয়াসাদ আজিমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ওই সময় দলের নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা তার এবং তার সতীর্থদের শারীরিকভাবে নিপীড়ন করতেন। তিনি দাবি করেন, মঞ্জুরুল ইসলাম খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করার নামে প্রায়ই শারীরিকভাবে স্পর্শ করতেন, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আলিঙ্গন বা বুকে টেনে ধরতেন।
এদিকে, ৪৬ বছর বয়সী মঞ্জুরুল ইসলাম এই অভিযোগগুলিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সবই মিথ্যা। দলের অন্যান্য খেলোয়াড়দেরও জিজ্ঞেস করতে পারেন,”—এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।
বিসিবির ভূমিকা নিয়ে এক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাহানারা। তিনি জানিয়েছেন, ২০২২ সালে বিসিবিকে লিখিতভাবে অভিযোগ জানানোর পরেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে, অভিযোগটি জনসম্মুখে আসার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং জানিয়েছে, ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। বিসিবির ভাইস-প্রেসিডেন্ট শাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, এটি একটি গুরুতর বিষয়, সঠিকভাবে তদন্ত করা জরুরি।
তামিম ও মাশরাফী সমর্থন জানালেন
অভিযোগ প্রকাশের পর জাহানারা আলমের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশের পুরুষ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, “যারা কোনো সময় হেনস্তার শিকার হয়েছেন, তাদের উচিত নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করা।” তামিম আরও বলেন, “ক্রিকেটের ভবিষ্যত প্রজন্মের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এসব ঘটনা সামনে আনা জরুরি।”
তামিমের মত, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বা সরকারের পক্ষ থেকে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত, যাতে বিসিবি কোনো পক্ষপাতিত্ব করতে না পারে। তিনি দাবী করেন, যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত শেষ করা এবং দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এছাড়া, সাবেক অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা তার ফেসবুকে লিখেছেন, “আশা করি বিসিবি পুরোপুরি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।”
সরকারি সহায়তার আশ্বাস
এদিকে, ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, জাহানারা আলম যদি চান, সরকার আইনগত সহায়তা প্রদান করবে এবং অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সব ধরনের সহায়তা করবে। তিনি বলেন, “সরকার নারী খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।”
কোয়াবের সমর্থন
ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) অভিযোগগুলোর দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় তারা জাহানারা আলমকে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করবে।
এই ঘটনাটি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং অনেকেই আশা করছেন, এটি ক্রিকেটের সুরক্ষিত ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।