খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
দিল্লির রেডফোর্টে ভয়াবহ বিস্ফোরণের তদন্তে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের মতে, এই হামলার জন্য মোট ৩২টি গাড়ি ব্যবহৃত হচ্ছিল, যা বিস্ফোরক পরিবহন বা বোমা হামলায় ব্যবহৃত হত। এর মধ্যে মারুতি সুজুকি ব্রেজা, মারুতি সুইফট ডিজায়ার এবং ফোর্ড ইকোস্পোর্ট গাড়ি ছিল। এই গাড়িগুলো ব্যবহার করে একটি সিরিজ হামলা পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল ৬ ডিসেম্বর দিল্লির ছয়টি স্থান, এই দিনেই বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছিল।
বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটার পর, একটি হুন্ডাই আই২০ গাড়ি হামলার প্রথম বাহন হিসেবে শনাক্ত হয়, যা সোমবার সন্ধ্যায় বিস্ফোরিত হয়। তদন্তে আরো জানা গেছে, অন্যান্য গাড়িগুলোও হামলার জন্য প্রস্তুত ছিল। এ পর্যন্ত চারটি গাড়ি শনাক্ত করা হয়েছে, এর মধ্যে একটি ব্রেজা হরিয়ানার ফরিদাবাদের আল-ফালাহ মেডিকেল সায়েন্সেস অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের ক্যাম্পাসে পাওয়া গেছে, যা এই চক্রের মূল ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আরেকটি গাড়ি, ফোর্ড ইকোস্পোর্ট (ডিএল১০ সিকে ০৪৫৮), বুধবার রাতে ফরিদাবাদে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়, এবং এর ভেতর এক তরুণকে ঘুমন্ত অবস্থায় আটক করা হয়। ডিজায়ার গাড়িটিও সোমবার বাজেয়াপ্ত করা হয়, এর ভেতর থেকে একটি অ্যাসল্ট রাইফেল ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
রেডফোর্টে বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত হন। আই২০ গাড়িটিতে উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক ও অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফুয়েল অয়েল ছিল, এবং প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, উমর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি ভুলে আগেভাগে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ফেলেন, ফলে তিনি ঘটনাস্থলে নিহত হন।
পুলিশ সূত্র জানায়, উমর মোহাম্মদ, যিনি উমর উন-নবী নামে পরিচিত, সোমবার সকালে গাড়িটি বদরপুর সীমান্ত দিয়ে দিল্লিতে প্রবেশ করে এবং কয়েক ঘণ্টা শহরে ঘুরে বেড়ায়। পরিকল্পনা ছিল, লালকেল্লার পার্কিং এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটানোর। তবে, ফোর্টটি বন্ধ থাকায় উমর পরিকল্পনা বদলে কেল্লার প্রধান ফটকের সামনে, ব্যস্ত ট্রাফিক সিগন্যালে বিস্ফোরণ ঘটায়। এর আশেপাশে একটি মেট্রো স্টেশনও ছিল।
তদন্তে আরো জানা গেছে, উমরের তিন সহযোগী আদিল আহমেদ রাঠার, মুজাম্মিল শাকিল, ও শাহিনা সাঈদকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে ৩০০০ কেজির বেশি বিস্ফোরক ও কয়েকটি অ্যাসল্ট রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে। এসব বিস্ফোরক ফরিদাবাদের আল-ফালাহ হাসপাতাল এবং জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগের গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজে মজুত ছিল।