খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
ইসলামে জুমার দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে মুমিনদের দ্রুত মসজিদে গমনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাদিসে জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমলের বিষয়ে বর্ণনা আছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনরা! যখন জুমার নামাজের আজান দেওয়া হবে, তখন আল্লাহর স্মরণে ছুটে চল এবং বেচাকেনা বন্ধ করো; এটি তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বুঝো। এরপর নামাজ শেষ হলে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো, আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করো এবং আল্লাহকে বেশি স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফল হও।’ (সুরা জুমা, আয়াত ৯-১০)
জুমার দিনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল নিম্নরূপ:
১. জুমার দিনের মর্যাদা: আবু লুবাবা বিন আবদুল মুনজির (রা.) থেকে বর্ণিত, হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের পাঁচটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন: আদম (আ.) সৃষ্টি, জমিনে অবতরণ, মৃত্যু, বিশেষ দোয়া গ্রহণের সময় এবং কিয়ামতের সূচনা। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৮৯৫)
২. জুমার নামাজ আদায়: সালমান ফারসি থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি জুমার দিনে গোসল করে, তেল ব্যবহার করে, সুগন্ধি লাগিয়ে মসজিদে যায়, নির্দিষ্ট স্থানে বসে নামাজ আদায় করে এবং খুতবা শোনে, আল্লাহ তার দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের পাপ মাফ করবেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮৩)
৩. গোসল ও আগেভাগে মসজিদে যাওয়া: আউস বিন আউস সাকাফি (রা.) থেকে বর্ণিত, যারা জুমার দিনে গোসল করে, আগে মসজিদে পৌঁছায় এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনে, তাদের প্রতি পদক্ষেপের জন্য এক বছরের রোজা ও নামাজের সওয়াব লেখা হয়। (আবু দাউদ, হাদিস: ৩৪৫)
৪. মসজিদে প্রথম প্রবেশের সওয়াব: গোসলের পরে প্রথমে মসজিদে যাওয়া একটি উটের কোরবানির সমান, পরবর্তীদের জন্য যথাক্রমে গরু, ছাগল, মুরগি ও ডিম সদকার সমান সওয়াব। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৪১)
৫. দোয়া কবুলের মুহূর্ত: জুমার দিনে একটি বিশেষ সময় আছে, যখন মুসলিম আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা কবুল হয়। বিশেষত আছরের শেষ সময় অনুসন্ধান করা উত্তম। (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮)
৬. সুরা কাহাফ পাঠ: জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠ করলে দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ে আলোকিত হয়। শেষ ১০ আয়াত পাঠ করলে দাজ্জাল কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। (সহিহ তারগিব, হাদিস: ১৪৭৩, আল মুসতাদরাক: ২/৩৯৯)
৭. গুনাহ মাফ হওয়া: গোসল, সুগন্ধি, মসজিদে যাওয়া, নামাজ আদায় এবং খুতবা মনোযোগে শোনার মাধ্যমে দুই জুমার মধ্যবর্তী পাপ মাফ হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮৩)
৮. দরুদ পাঠ: জুমার দিনে নবীজি (সা.)-এর ওপর বেশি দরুদ পাঠ করা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এ দিনে দরুদ পাঠ নবীজি (সা.)-র কাছে উপস্থাপিত হয়। (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)
খবরওয়ালা/টিএসএন