খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
কানাডার তৃতীয় বৃহত্তম শহর কেলগেরী জনসংখ্যার দিক থেকে বেশ বড়। প্রায় ১১ লক্ষ মানুষের এই শহরে বাংলা ভাষাভাষীর সংখ্যাও কম নয়। ক্রমবর্ধমান এই শহরে অভিবাসীদের আকর্ষণ দিন দিন বাড়ছে। এছাড়া ছোট ছোট স্যাটেলাইট শহরগুলোতে বসবাসরত বাংলাদেশীদের সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও, প্রদেশের মাল্টিকালচারালিজম অ্যাসোসিয়েট মিনিস্টার মুহাম্মদ ইয়াসিনের তথ্য অনুযায়ী, কেলগেরীতে বাংলাদেশী অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ত্রিশ হাজার।
বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর বৃদ্ধি অনুযায়ী কন্স্যুলার সেবার চাহিদাও বেড়েই চলেছে। কানাডার বাংলাদেশ হাই কমিশন, অটোয়া এবং টরন্টো কনসাল জেনারেলের অফিস স্থানীয় কমিউনিটি সংগঠনের অনুরোধে বিভিন্ন শহরে ক্যাম্পের মাধ্যমে সেবা প্রদান করে। আগে দ্বি-বার্ষিক ভিত্তিতে এই ক্যাম্প আয়োজন করা হতো, তবে এখন বছরে একবার সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
মাত্র দুই মাস আগে কেলগেরীতে দু’দিনে প্রায় সাতশ সার্ভিস প্রদান করেছিল টরন্টো কনসাল জেনারেলের অফিস। সেবার জন্য আবেদনকারী প্রার্থীর সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছেছিল। বাংলাদেশ কানাডা অ্যাসোসিয়েশন অফ কেলগেরীর সভাপতি ইকবাল রহমান বলেন, ‘নভেম্বরের ১৬ ও ১৭ তারিখ অটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি দল স্থানীয় বাংলাদেশ সেন্টারে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কন্স্যুলার সেবা প্রদান করবে। নতুন পাসপোর্ট, পাসপোর্ট নবায়ন, নো-ভিসা, পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি সহ অন্যান্য সেবার জন্য ইতিমধ্যে প্রায় বারোশত অভিবাসী রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন। সীমাবদ্ধতার কারণে এর চেয়ে বেশি সেবা দেওয়া সম্ভব নয়।’
বাংলাদেশ হাইকমিশন ও টরন্টো মিশনের সেবায় স্থানীয় বাংলাদেশি অভিবাসীরা সন্তুষ্ট। অতীতে বিভিন্ন জটিলতা থাকলেও, পাসপোর্ট ও নো-ভিসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার জন্য সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
বিসিএওসির পক্ষে সমন্বয়কারী সাইফুল আলম মিশন বলেন, ‘কমিউনিটির চাহিদা বিবেচনায় মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো কন্স্যুলার সেবা আয়োজন করা হয়েছে, তবে সকল আবেদনকারীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
বিসিএওসির সাধারণ সম্পাদক আসিফ হোসেইন বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন ও টরন্টো কনসালেট জেনারেলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। কেলগেরীতে একটি স্থায়ী কনসুলেট অফিস স্থাপন অত্যন্ত জরুরি। কমিউনিটি সংগঠক মেহেদী হাসান রনি বলেন, কেলগেরীতে বাংলাদেশি কন্স্যুলার অফিস স্থাপন এখন সময়ের দাবি। এটি বৈদেশিক রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে অন্যতম উৎসও হতে পারে।
খবরওয়ালা/টিএসএন