খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ১৮ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
শোবিজের ঝলমলে দুনিয়ায় সাফল্য সাধারণত মাপা হয় বিশাল বাজেট, তারকাসমৃদ্ধ কাস্টিং এবং বক্স অফিসের আয় দিয়ে। তবে, এমন অনেক শিল্পী আছেন, যারা এই প্রচলিত ধারণা বদলে দিচ্ছেন। বলিউডের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সিনেমাগুলোর মুখ হিসেবে পরিচিত দীপিকা পাড়ুকোন সম্প্রতি জানিয়েছেন, তিনি এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছেন, যেখানে আর্থিক পরিসর বা বক্স অফিসের মাইলফলক তাঁর সিদ্ধান্তের মূল কারণ নয়। বরং তিনি এখন গুরুত্ব দিচ্ছেন উদ্দেশ্য, সৃজনশীলতা এবং সততাকে।
প্রভাস অভিনীত দুটি বহুল আলোচিত ছবি—‘স্পিরিট’ এবং ‘কল্কি’র সিক্যুয়েল থেকে সরে দাঁড়ানোর পর দীপিকার দৃষ্টিভঙ্গির এই পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এক সাক্ষাৎকারে দীপিকা জানান, সংখ্যার কোনো প্রভাব নেই তাঁর সিদ্ধান্তে। তিনি বলেন, “এই পর্যায়ে এসে আর তা নিয়ে ভাবি না। ১০০ কোটি, ৫০০ কোটি বা ৬০০ কোটি—এগুলো আর আমার মাপকাঠি নয়।”
দীপিকা জানান, তিনি এখন প্রকল্প বেছে নেন তার আগ্রহ এবং সততার ভিত্তিতে, পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে নয়। তিনি বলেন, “যা আমার সত্য বলে মনে হয় না, তা আমি করি না। কখনো কখনো মানুষ অনেক টাকা অফার করে এবং ভাবে শুধু সেটাই যথেষ্ট—কিন্তু তা নয়।”
দীপিকা আরও বলেন, এখন তাকে সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি দেয় নতুন সৃজনশীল প্রতিভার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ। তিনি বলেন, “এখন আমি বেশি আগ্রহী অন্য প্রতিভাকে সমর্থন দেয়ার দিকে। আমার টিম আর আমি এখন গল্প বলার জায়গা তৈরি করতে, নতুন লেখক, নির্মাতা এবং এমনকি নতুন প্রযোজকদের সমর্থন করতে বেশি মনোযোগী। এই দিকেই আমি এখন বেশি মনোযোগী।”
এছাড়া, দীপিকা স্বীকার করেছেন যে, এমন স্বচ্ছতা সবসময় ছিল না। তিনি বলেন, “আমি কি সব সময় এতটা পরিষ্কার ছিলাম? হয়তো না। কিন্তু এখন সেই স্পষ্টতা পেয়েছি। মাঝেমধ্যে পেছনে তাকিয়ে মনে হয়—আমি তখন কী ভাবছিলাম! এটাও শেখার অংশ। হয়তো ১০ বছর পর আজকের সিদ্ধান্তগুলো নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। কিন্তু এখন এগুলোই আমার কাছে সত্য মনে হয়।”
সম্প্রতি দীপিকা পাড়ুকোন আরো একবার শিরোনামে এসেছেন ৮ ঘণ্টার কাজের শিফটের দাবি নিয়ে। তিনি অতিরিক্ত কাজকে স্বাভাবিক ভাবাও বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমরা অতিরিক্ত কাজকে স্বাভাবিক করে ফেলেছি। মানুষের শরীর-মন, উভয়ের জন্য আট ঘণ্টার কাজই যথেষ্ট। আপনি সুস্থ থাকলেই সেরাটা দিতে পারবেন।”