এস এম কামরুজ্জামান সাগর
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
১৭ নভেম্বর ২০২৫, সোমবার, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বন্দর সংক্রান্ত দুটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দেশের সর্বত্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। superficially, চুক্তিগুলো চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল ও ঢাকার পানগাঁও টার্মিনাল পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে প্রশ্ন উঠেছে চুক্তিগুলোর স্বচ্ছতা ও প্রক্রিয়া নিয়ে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো: অবৈধ অসাংবিধানিক সরকার, যারা মাত্র নির্বাচন আয়োজনের কথা বলে ৫ আগস্ট জঙ্গি হামলা চালিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিল, তারা কেন দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি তড়িঘড়ি করে স্বাক্ষর করল?
লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল ৩০ বছরের জন্য ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস এবং পানগাঁও টার্মিনাল ২২ বছরের জন্য সুইজারল্যান্ডের মেডলগকে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের অর্থনীতিবিদ, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ জনগণ এই প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করেছে।
১. স্বচ্ছতার অভাব: অভিযোগ উঠেছে, চুক্তিগুলো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে হয়নি, বরং সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে (G2G)। ফলে স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং দেশের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সুবিধা প্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন থেকে গেছে।
২. ক্ষমতার অপব্যবহার: অবৈধ অসাংবিধানিক সরকারের ক্ষমতার সীমা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকরা মনে করছেন, এত দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি কেবল নির্বাচিত সরকারই নিতে পারবে, যারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।
৩. কৌশলগত ঝুঁকি: চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রবেশদ্বার এবং আঞ্চলিক কৌশলগত সম্পদ। বিদেশি কোম্পানির হাতে দীর্ঘ সময়ের জন্য এই সম্পদ পরিচালনা করা দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত রাখবে, তা প্রশ্নবিদ্ধ।
মনোযোগ সরানোর নাটক:
চুক্তির সময়ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। সেই দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায়ের দিন ছিল। অবৈধ সরকারের কোর্টের রায়ের দিনই ইন্টারকন্টিনেন্টালে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। সমালোচকরা মনে করছেন, দেশের মনোযোগ আদালতের দিকে সরিয়ে চুক্তি গোপনে সম্পন্ন করা হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর রোডের ভাঙা বাড়ি ধ্বংসের ঘটনা এবং পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি এই বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে। অনেকের মতে, এটি জনগণের দৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি থেকে সরানোর জন্য পরিকল্পিত কৌশল।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি হাতে হস্তান্তর এবং অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য সংকেত বহন করছে। সরকারকে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্তাবলী প্রকাশ করে জনমনে সৃষ্ট সন্দেহ দূর করতে হবে। অন্যথায়, তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তকে ষড়যন্ত্র এবং দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখা হবে।
এস এম কামরুজ্জামান সাগর
নির্মাতা, সংগঠক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট
খবরওয়ালা/টিএসএন