খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
আজ শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নরসিংদীর মাধবদীকে কেন্দ্র করে আঘাত হানা ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে জেলার তিন উপজেলায় (সদর, পলাশ ও শিবপুর) মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী, যার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা এখানেই ঘটে।
মৃতদের মধ্যে সদর উপজেলার গাবতলী এলাকার দেলোয়ার হোসেন (৩৭) এবং তাঁর ছেলে ওমর ফারুক (৯) সবচেয়ে মর্মান্তিকভাবে আহত হন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভূমিকম্পের সময় পাশের একটি বহুতল ভবনের ছাদ থেকে ছিটকে পড়া নির্মাণসামগ্রী তাঁদের একতলা বাড়ির ছাদের ওপর আঘাত করে। এতে ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ে। দেলোয়ার, তাঁর মেয়ে তাসফিয়া এবং ছেলে ওমর ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন—ঠিক তখনই মাথায় পড়ে ইট-পাথরের খণ্ড। তিনজনই গুরুতর আহত হন। পরে ওমরকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় এবং দেলোয়ার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় মারা যান। তাসফিয়া চিকিৎসাধীন।
পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নে মাটির ঘর ধসে প্রাণ হারান ৭৫ বছর বয়সী কাজম আলী ভূঁইয়া। ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে আতঙ্কে তাঁর দুই নাতি-নাতনি ঘর থেকে বের হলেও তিনি বের হতে পারেননি। দেয়াল ধসে পড়লে তিনি চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
পলাশেরই কাজীরচর গ্রামের নয়াপাড়ায় নাসির উদ্দীন (৬৫) ভূমিকম্পের সময় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরিবারের সদস্য ও চিকিৎসকেরা মনে করছেন, হঠাৎ তীব্র কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে তাঁর হৃদ্রোগের উদ্রেক হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি মারা যান।
শিবপুরের আজকিতলা গ্রামে ভূমিকম্পের সময় গাছ থেকে পড়ে মারা যান ফোরকান মিয়া (৩৫)। তিনি গাছের ওপর কাজ করছিলেন। হঠাৎ ঝাঁকুনিতে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান।
এই পাঁচটি মৃত্যুই দেখায়—ভূমিকম্প শুধুমাত্র ভবনধস নয়, মানব আচরণ, দুর্বল কাঠামো এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি মিলিয়ে একটি জটিল মানবিক বিপর্যয় তৈরি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্মাণসামগ্রীর নিরাপত্তাহীনতা, মাটির ঘরের দুর্বলতা, এবং ভূমিকম্প-সতর্কতা বিষয়ে অজ্ঞতা ক্ষয়ক্ষতির অন্যতম কারণ।