খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
বঙ্গোপসাগরে নতুন ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির সম্ভাবনা জোরালো বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া ডট কমের প্রধান আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ। তার মতে, ২৬ নভেম্বরের পর সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি ও সম্ভাব্য উপকূলবর্তী আঘাতের স্থান সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে।
রবিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত দ্বিতীয় আপডেটে তিনি এ তথ্য জানান। পোস্টে কৃষক ও সমুদ্রগামী জেলেদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি।
পলাশ জানান, সর্বশেষ আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী ২৬ বা ২৭ নভেম্বরের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে, বিশেষ করে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণ পাশে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এটি ধীরে ধীরে নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপ হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। যদিও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি বিষয়ে সব পূর্বাভাস মডেল একমত, তবে এর শক্তি ও আঘাত হানার স্থান নিয়ে বিভিন্ন দেশের মডেল ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল থেকে শুরু করে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম উপকূল পর্যন্ত যেকোনো এলাকায় এই ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে পারে। ২৬ নভেম্বরের পর এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পাকা আমন ধান দ্রুত কেটে-গোছানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে শীতকালীন সবজি চাষিদের বীজ বোনার সময় ও সেচ ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য বৃষ্টির বিষয়টি মাথায় রাখতে বলেছেন।
২ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে শুষ্ক ও রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
১ ডিসেম্বরের পর উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল হতে পারে। তাই সব মাছধরা ট্রলারকে ১ ডিসেম্বরের আগেই উপকূলে ফিরে আসার প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৩০ নভেম্বরের পর নতুন করে সমুদ্রে না যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদের পূর্বাভাস, ১ থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত টেকনাফ–সেন্ট মার্টিন রুটের সমুদ্র অতি উত্তাল থাকবে। ফলে ওই সময় ভ্রমণে সতর্কতার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।