খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২৮ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইউরোপের অপেক্ষাকৃত ছোট দলগুলোর মধ্যে কসোভোই এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম। মাত্র আট বছর আগে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশের পর দলটি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে পারে—এমন সম্ভাবনা এখন হাতের নাগালে। আর সেই স্বপ্নকে উসকে দিল দেশটির সরকারের ঘোষিত বিশাল অঙ্কের পুরস্কার।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কসোভো সরকার ঘোষণা করেছে—যদি জাতীয় দল ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারে, তবে খেলোয়াড়রা পাবেন ১৫ লাখ ইউরো, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২১ কোটি ২৩ লাখ। এই ঘোষণা শুধু দলকেই নয়, পুরো দেশকে উজ্জীবিত করেছে।
ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাইপর্বে শক্তিশালী দলদের সঙ্গেই লড়াই করতে হয়েছে কসোভোকে। ‘বি’ গ্রুপে তারা ৬ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট সংগ্রহ করে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে। সমান ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা সুইজারল্যান্ড সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে।
নীচের টেবিলে কসোভোর গ্রুপ পরিস্থিতি তুলে ধরা হলো—
| দল | ম্যাচ | পয়েন্ট | অবস্থান |
|---|---|---|---|
| সুইজারল্যান্ড | 6 | 14 | ১ম |
| কসোভো | 6 | 11 | ২য় |
| অন্য দলসমূহ | – | – | – |
গ্রুপে দ্বিতীয় হওয়া মানেই তাদের জন্য প্লে–অফের সুযোগ। আর সেই প্লে–অফই এখন কসোভোর ভাগ্য নির্ধারণ করবে।
আগামী ২৬ মার্চ ব্রাতিস্লাভায় প্লে–অফের সেমিফাইনালে স্লোভাকিয়ার মুখোমুখি হবে কসোভো। ম্যাচটি জিততে পারলে ৩১ মার্চ প্রিস্টিনায় অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে উঠবে তারা।
ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে তুরস্ক ও রোমানিয়া—ইউরোপিয়ান ফুটবলের দুটো অভিজ্ঞ ও শক্তিশালী দল। ফলে কসোভোর সামনে কাজটি কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।
কসোভোর অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তি ঘোষণা দিয়েছেন—
স্লোভাকিয়াকে হারাতে পারলেই দল পাবে ৫ লাখ ইউরো বোনাস
বিশ্বকাপে উঠলেই আরও ১০ লাখ ইউরো
কেবিনেট বৈঠকে তিনি বলেন, “এটি শুধু ফুটবল দলের জন্য নয়, পুরো দেশের জন্য গৌরবের ব্যাপার হবে।”
এই অর্থ প্রণোদনা বোঝায় যে, কসোভো সরকার ফুটবলকে জাতীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।
২০০৮ সালে সার্বিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণার পর ২০১৬ সালে ফিফা ও উয়েফার সদস্যপদ পায় কসোভো। মাত্র সাত বছরে তারা উঠে এসেছে এমন এক পর্যায়ে, যেখানে ইউরোপের বড় দলের সঙ্গে সমান তালে লড়ছে।
২০১০ সালে আলবেনিয়ার বিপক্ষে প্রথম প্রীতি ম্যাচ খেলা কসোভো এখন ইউরোপের প্লে–অফে। জাতীয় দল গঠনে তাদের প্রবাসী ফুটবলারদের ভূমিকা ব্যাপক।
কসোভো এখন দুই ম্যাচ দূরে ইতিহাস গড়ার থেকে। দলটি যদি বিশ্বকাপে পা রাখতে পারে, তবে তা শুধু প্রথমবারের অর্জনই হবে না—ছোট রাষ্ট্রগুলোকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাবে যে সীমিত কাঠামো থাকলেও ফুটবলে সাফল্য সম্ভব।
পুরস্কারের ঘোষণা খেলোয়াড়দের মধ্যে নতুন উদ্যম সঞ্চার করেছে। এখন দেখার বিষয়—মাঠে সেই উদ্দীপনা কতটা ফুটে ওঠে।