খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইরান তার দশম দফায় ইসরায়েলের উপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে দেশটিকে নতুন আতঙ্কের মধ্যে ফেলেছে। ইসরায়েলজুড়ে সাধারণ নাগরিকরা বাঙ্কার এবং আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েও কোনো নিরাপত্তা অনুভব করতে পারছে না। উদ্বেগজনক বিষয় হল, অধিকৃত পশ্চিম তীরেও পরিস্থিতি একই রকম ভয়াবহ; সেখানে হোম ফ্রন্ট অ্যালার্ট সিস্টেম, বিমান হামলার অ্যালার্ম বা আশ্রয়কেন্দ্র নেই, ফলে সাধারণ মানুষ সম্পূর্ণরূপে অরক্ষিত।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান রবিবার রাতের প্রথম অংশে হামলা তেমন তীব্র না করলেও সোমবার সকাল থেকে ভারী বোমাবর্ষণ চালাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা কঠিন, এই বিস্ফোরণের শব্দগুলো কি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিরোধের কারণে হয়েছে নাকি সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের ফল।
রবিবার পশ্চিম জেরুজালেমের কাছে অবস্থিত বেইত শেমেশ শহরের একটি সুরক্ষিত আশ্রয়কেন্দ্রে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, অন্তত নয়জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
সম্প্রতি চলমান এই সংঘাতের সময়, ইরান-ইসরায়েল বিরোধিতার পূর্ববর্তী দফার তুলনায়, এখন ইসরায়েলিদের আরও দীর্ঘ সময় ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে একেক সময়ে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত অবস্থান করা লাগছে, যা ইরানকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে।
| তারিখ | সময় | লক্ষ্য | ক্ষয়ক্ষতি | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | রাত | পশ্চিম জেরুজালেম | সীমিত | শুরুতে ভারী হামলা নয় |
| ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | সকাল থেকে | বিভিন্ন শহর | অন্তত ৯ নিহত | বেইত শেমেশে আশ্রয়কেন্দ্র আঘাতপ্রাপ্ত |
| চলমান | সারাবিশ্ব | সামরিক ও বেসামরিক | অসংখ্য আহত | বাঙ্কারেও স্বস্তি নেই |
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের হামলার উদ্দেশ্য মার্কিন স্বার্থের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং ইসরায়েলের প্রতিরোধ ব্যবস্থার পরীক্ষা নেওয়া। ইতিমধ্যেই ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন মধ্যপ্রাচ্যের স্থানে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর অবস্থানকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।
ইসরায়েলের সাধারণ জনগণ এখন প্রতিনিয়ত আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে, আর যুদ্ধবিরতির কোনো নিশ্চয়তা নেই। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা চলতে থাকলে সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি আরও জটিল এবং বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।