খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ মে ২০২৬
২০২৫ সালে এশিয়া মহাদেশে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহের ফলে সৃষ্ট আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির এক বিশাল অংশ কোনো বীমা সুরক্ষার আওতায় ছিল না। সুইজ রি ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক ‘সিগমা’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অঞ্চলে মোট ক্ষতির মাত্র ৮ শতাংশ বীমাকৃত ছিল, অর্থাৎ অবশিষ্ট ৯২ শতাংশ ক্ষতিই ছিল বীমাহীন। গত বছর এশিয়াজুড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বীমাকৃত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। মূলত দ্রুত নগরায়ণ, অবকাঠামোগত ব্যাপক বিস্তার এবং বন্যাপ্রবণ ও উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে সম্পদের ঘনত্বের কারণে এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে উন্নত অর্থনীতি এবং উদীয়মান বাজারগুলোর বীমা সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক বিশাল ব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিবেদনে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উন্নত এশীয় দেশগুলো তাদের মোট দুর্যোগজনিত ক্ষতির প্রায় ২২ শতাংশ বীমার মাধ্যমে পুষিয়ে নিতে সক্ষম হলেও, উদীয়মান বাজারগুলোতে এই হার মাত্র ৫ শতাংশ। এই বিশাল সুরক্ষা ঘাটতির প্রধান কারণ হিসেবে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর মানুষের সীমিত ক্রয়ক্ষমতা, বীমা সেবার অপর্যাপ্ততা এবং দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে দায়ী করা হয়েছে।
২০২৫ সালের এই ৫.২ বিলিয়ন ডলারের বীমাকৃত ক্ষতি পূর্ববর্তী ১০ বছরের গড় ১১.৫ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় অনেক কম এবং এটি গত নয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তর। তবে এই সংখ্যাটি এশিয়ার প্রকৃত ঝুঁকির চিত্র প্রতিফলিত করে না, বরং সম্পদের বিশাল একটি অংশ বীমার বাইরে থাকায় এমনটি দেখা যাচ্ছে।
এশীয় অঞ্চলে দুর্যোগজনিত ক্ষয়ক্ষতির সিংহভাগই ঘটে মূলত তিনটি প্রধান প্রাকৃতিক কারণে। ২০২৫ সালের তথ্যের ভিত্তিতে এই দুর্যোগগুলোর প্রভাব নিচের সারণিতে উপস্থাপন করা হলো:
| দুর্যোগের ধরন | বীমাকৃত ক্ষতির পরিমাণ (মার্কিন ডলার) | ঐতিহাসিক প্রভাব (১৯৭০ থেকে) |
| ভূমিকম্প | ১.৯ বিলিয়ন | বার্ষিক ক্ষতির প্রধান উৎস |
| বন্যা | ১.৭ বিলিয়ন | দ্রুততম ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি |
| ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় | ১.২ বিলিয়ন | উপকূলীয় অঞ্চলের প্রধান আতঙ্ক |
| মোট | ৫.২ বিলিয়ন | বার্ষিক মোট বীমাকৃত ক্ষতি |
১৯৭০ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এশিয়ার বার্ষিক বীমাকৃত ক্ষতির ৯০ শতাংশের বেশি সংঘটিত হয় এই ভূমিকম্প, বন্যা এবং ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের কারণে।
বর্তমানে এশিয়ার জন্য বন্যা সবচেয়ে ব্যয়বহুল এবং দ্রুত ক্রমবর্ধমান প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালে এশিয়াজুড়ে বন্যার ফলে মোট অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এশিয়ায় বন্যাজনিত বীমাকৃত ক্ষতি প্রতি বছর গড়ে ১২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী এই খাতের গড় বৃদ্ধির হারের (৬ শতাংশ) দ্বিগুণ। এশিয়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের মাত্র ২০ শতাংশ বর্তমানে বীমার আওতায় রয়েছে, যা অত্যন্ত নগণ্য।
উপসংহারে বলা যায়, এশিয়ার ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নগরায়ণ এই অঞ্চলকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কাছে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। বীমা সুরক্ষার এই বিশাল ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর জন্য এক মারাত্মক বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই দুর্যোগ সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং বীমা সেবার আওতা বাড়ানোই এখন এই অঞ্চলের প্রধান চ্যালেঞ্জ।