খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইসলামিক ব্যাংকিং খাত এমন প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা দেশের আর্থিক খাতে নতুন মানদণ্ড তৈরি করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন বলছে—একদিকে জমা, বিনিয়োগ ও সম্পদ দ্রুত বাড়ছে; অন্যদিকে রেমিট্যান্সে রেকর্ড প্রবাহ দেখা যাচ্ছে; তবে রপ্তানিতে তীব্র পতন খাতটির স্থিতিশীলতার সামনে নতুন প্রশ্নও তুলেছে।
খাতটির জমা Tk 4.34 ট্রিলিয়ন থেকে Tk 4.67 ট্রিলিয়নে পৌঁছেছে, যা গ্রাহকদের বিশ্বাস বৃদ্ধির পরিষ্কার চিত্র। তবে এর চেয়েও বেশি গতি দেখা গেছে বিনিয়োগে—এক বছরে ১০.৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি। এই বৃদ্ধির ফলে ইসলামিক ব্যাংকগুলো দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে একটি দৃশ্যমান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের মোট ব্যাংকিং ব্যবস্থা একই সময়ে ১১ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের পৃথক গতিশীলতা বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তাদের মতে, শারিয়াহ–সম্মত আর্থিক সেবার চাহিদা মূলত গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও প্রবাসী আয়প্রবাহের ওপর ভিত্তি করে বাড়ছে।
তবে সবচেয়ে নজরকাড়া ক্ষেত্র হলো রেমিট্যান্স। প্রবাসী আয় $540 মিলিয়ন থেকে $818 মিলিয়নে পৌঁছানো—এটি শুধু আস্থারই প্রতীক নয়, বরং অভিবাসী শ্রমিকদের মধ্যে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা নির্দেশ করে। বাজারে তাদের শেয়ার ৩০ শতাংশ ছাড়ানোও তা প্রমাণ করে।
এদিকে খাতটির জন্য অস্বস্তিকর খবরও আছে। রপ্তানি আয় ১৬ শতাংশ কমে $703 মিলিয়নে নেমে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা, শিপমেন্ট বিলম্ব, এবং কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর আন্তর্জাতিক মান অনুসরণে জটিলতা—রপ্তানি আয়ে পতনের অন্যতম কারণ।
ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন—
“ইসলামিক ব্যাংকগুলো অবিশ্বাস্য গতি নিয়ে এগোচ্ছে, কিন্তু রপ্তানি আয়ে সংকোচন একটি বড় সতর্কতা। খাতটিকে ট্রেড ফাইন্যান্সিং সক্ষমতা বাড়াতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “গভর্ন্যান্স শক্তিশালী করা, প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, এবং নতুন পণ্যে বৈচিত্র্য আনাই হবে ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতার চাবিকাঠি।”
সর্বোপরি, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যান বলছে—ইসলামিক ব্যাংকিং বাংলাদেশে আর পার্শ্বধারার খাত নয়; এটি এখন মূলধারার শক্তিশালী খেলোয়াড়, যার ভবিষ্যত আরও উজ্জ্বল হতে পারে যদি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতা উন্নত করা যায়।
| সূচক | সেপ্টেম্বর ২০২4 | সেপ্টেম্বর ২০২5 | প্রবৃদ্ধি |
|---|---|---|---|
| ইসলামিক ব্যাংকের জমা | Tk ৪.৩৪ ট্রিলিয়ন | Tk ৪.৬৭ ট্রিলিয়ন | ৭.৫২% |
| ইসলামিক ব্যাংকের বিনিয়োগ | Tk ৫.১৭ট্রিলিয়ন | Tk ৫.৭৩ ট্রিলিয়ন | ১০.৮৬% |
| মোট ব্যাংকিং জমা | Tk ১৮.৫৮ ট্রিলিয়ন | Tk ২০.৬৩ ট্রিলিয়ন | ১১.০২% |
| মোট ব্যাংকিং বিনিয়োগ | Tk ২০.৮৪ ট্রিলিয়ন | Tk ২৩.২৮ ট্রিলিয়ন | ১১.৭২% |
| ইসলামিক ব্যাংকের মোট সম্পদ | Tk ৮.৫০ ট্রিলিয়ন | Tk ৯.৫৪ ট্রিলিয়ন | ১২.২৬% |
| রপ্তানি আয় | $৮৩৭ মিলিয়ন | $৭০৩ মিলিয়ন | -১৬% |
| আমদানি ব্যয় | $১.০৭ বিলিয়ন | $১.০১ বিলিয়ন | -৫.২৩% |
| রেমিট্যান্স | $৫৪০ মিলিয়ন | $৮১৮ মিলিয়ন | ৫১.৪৮% |
| এজেন্ট ব্যাংকিং জমা | Tk ২০৯ বিলিয়ন | Tk ২৬৪ বিলিয়ন | ২৬.৩৫% |