বিজয়ের মাসে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান: রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও চেতনার প্রশ্ন

আজ যখন বিজয়ের মাসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে, তখন আমাদের হৃদয়ে বইছে রক্তক্ষরণের স্রোত। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে কেনা এই স্বাধীন বাংলাদেশে যখন শুনতে হয় ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান, তখন প্রশ্ন জাগে– তবে  কি আমাদের বিজয় অর্থহীন ছিল? আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ শহীদ এবং দুই লক্ষ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশে পরাজিত শক্তির জয়গান কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। সাউথ সন্দ্বীপ হাইস্কুলের মাঠে কেরাত প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে যে বিষবাষ্প ছড়ানো হলো, তা কেবল একটি স্লোগান নয়; এটি আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর চরম আঘাত। এটি সেই পরাজিত শক্তির ঔদ্ধত্য, যারা ৫৪ বছর ধরে অপেক্ষা করছিল প্রতিশোধের! এজন্যই তারা গতবছর ৫ আগষ্ট জঙ্গি হামলা করে ক্ষমতা দখল করেছে।

রাষ্ট্রদ্রোহিতা কি কেবল আইন নয়, চেতনার প্রশ্নও!!
আইনের চোখে এই ঘটনা রাষ্ট্রদ্রোহিতার চরম প্রকাশ কিনা, সেই বিচার আদালতের। কিন্তু বাঙালির চেতনার আদালতে, এটি নিঃসন্দেহে একাত্তরের ঘাতকদের প্রেতাত্মার আস্ফালন। পাকিস্তানিদের দীর্ঘ শোষণ, বঞ্চনা এবং যে স্লোগানকে পরাজিত করতে এদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা অস্ত্র ধরেছিলেন, নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, সেই স্লোগানই আজ আমাদের পবিত্র ভূমিতে উচ্চারিত হচ্ছে। এটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের এক গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত। এই নব্য রাজাকার, লালবদর আর পাকিস্তানপ্রেমী রাজাকার’রা নীরবে আমাদের জাতীয় চেতনার মূলে আঘাত হানছে।

আমরা কি ভুলে গিয়েছি, আমরা বীরের জাতি ?
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলার বীর সন্তানেরা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করে বাঙালি জাতিকে একটি স্বাধীন দেশ দিয়ে গেলেন। এই পাকিস্তানি প্রেতাত্মাদের আস্ফালন দেখার জন্য!

শহীদের রক্তের ঋণ: আর কতকাল চেয়ে দেখব ?
প্রতিটি বাঙালি যারা একাত্তরের ইতিহাস জানে, যারা ‘জয় বাংলা’র রণধ্বনিতে বিশ্বাসী, তাদের হৃদয়ে আজ আগুন জ্বলছে। আমরা বীরের জাতি, আমরা কেন এই আস্ফালন চেয়ে চেয়ে দেখব? মুষ্টিমেয় কিছু বিকৃত মানসিকতার পাকিস্তানপ্রেমী রাজাকার’রা যখন আমাদের বিজয়ের মাসে 
পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দিয়ে উল্লাস করে, তখন আমাদের পূর্বপুরুষদের আত্মত্যাগ আর বীরত্বগাঁথা ধূলিসাৎ হতে থাকে।

আর নয় নীরবতা! সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। একাত্তরের মতো পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই দেশবিরোধী পাকিস্তানী প্রেতাত্মাদের রুখতে হবে। এই বিষবৃক্ষের মূলোৎপাটন না করলে শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ হবে না। আমাদের সন্তানদের জানাতে হবে, এই মাটি কত পবিত্র, কত ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত। আমাদের জাতীয় চেতনার দুর্গ আরও মজবুত করতে হবে।

জাগো বাঙালি, জাগো!!
বীর বাঙালির বীরত্বগাঁথা কোনোদিনই মুছে যাবে না। কিন্তু একে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রয়োজন সদা জাগ্রত থাকা। সময় এসেছে আবার হুঙ্কার দেওয়ার, যেমনটি এসেছিল বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের পর। প্রতিহত করতে হবে সেই অপশক্তিকে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী না, যারা আমাদের ইতিহাসকে বিকৃত করতে চায়, যারা এই স্বাধীন দেশে পাকিস্তান কায়েম করতে চায়।

এখনই সময় ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের ঋণ শোধরাবার।

দৃঢ় প্রত্যয়ে উচ্চকিত হোক আমাদের কণ্ঠ: 
‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ নয়, বাংলার আকাশ-বাতাসে ধ্বনিত হবে—জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু! বাংলাদেশ চিরজীবী হোক!

এস এম কামরুজ্জামান সাগর 
নির্মাতা, সংগঠক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট।

খবরওয়ালা/টিএসএন

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।