খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটে টেস্ট ওপেনার নিয়ে চলমান পরিবর্তনের সময়েই এসেছে উসমান খাজার দুঃসংবাদ। পিঠের ব্যথার কারণে অ্যাশেজ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর জায়গা হয়নি। একদিকে বয়স, অন্যদিকে ফর্মহীনতা—দুটিই যেন একই সময় তাঁকে ঘিরে ফেলেছে। এর ফলে ক্রিকেট মহলে আলোচনা—তিনি কি আর কখনো টেস্ট দলে নিয়মিত ফিরতে পারবেন?
প্রথম টেস্টেই সমস্যার সূত্রপাত। খাজা প্রথম দিন ব্যথা অনুভব করার পর ফিল্ডিং করতে না পারায় ওপেনিংয়ে উঠতে পারেননি। তাঁর চার নম্বরে নেমে মাত্র ২ রানে আউট হওয়া আরও চাপ বাড়ায়। ফিল্ডিংয়ে দুটি কঠিন মুহূর্তে পিঠ বেশি চাপে পড়ায় তাঁর খেলা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
এদিকে তাঁর অনুপস্থিতিতে ট্রাভিস হেডের অসাধারণ ওপেনিং ইনিংস সব আলো নিজের দিকে টেনে নেয়। মাত্র ৮৩ বলে ১২৩ রান—যেটি শুধু ম্যাচই জিতিয়েছে না, নতুন ওপেনার খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনাকেও উজ্জ্বল করে তুলেছে। হেডকে ওপেনারে রেখে খেলার বিষয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট এখন বেশ গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছে।
অন্যদিকে খাজার ব্যাটিং রেকর্ডও যেন আজ তাঁর বিপক্ষে দাঁড়িয়ে আছে। ২০২৩ অ্যাশেজের পর থেকে ইনিংসপ্রতি গড় ৩১.৮৪—যা একজন ওপেনারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নয়। ৪৫ ইনিংসে মাত্র একটি সেঞ্চুরি—কারণটিও দলকে ভাবাচ্ছে। ব্যাক-আপ ব্যাটার হিসেবে বো ওয়েবস্টার, জশ ইংলিসরা অনেকদিন ধরেই আলোচনায় আছেন।
গ্যাবা টেস্টের আগে অনুশীলনে খাজা ব্যাট করলেও তা মোটেও ফিট দেখায়নি নির্বাচকদের চোখে। তাঁদের মতে, তাঁকে মাঠে পাঠানো মানে ঝুঁকি নেওয়া। তাই তাঁকে স্কোয়াডে রেখেও মূল একাদশ থেকে বাদ দেওয়া হয়। যদিও তাঁর বদলি হিসেবে কোনো খেলোয়াড় নেওয়া হয়নি, এটা মূলত পুনর্বাসনের সুযোগ দিতে।
এতে এক বড় প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে—খাজার ভবিষ্যৎ কী?
যদি হেড গ্যাবায় সফল হন, তাহলে ওপেনিং একপ্রকার নিশ্চিতভাবেই তাঁর পক্ষে চলে যাবে। আর খাজা সুস্থ হয়ে ফিরলেও হয়তো পাওয়া যাবে না আগের মতো জায়গা। তদুপরি বিকল্প খেলোয়াড়দের আধিক্য অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকদের আরো সতর্ক করে তুলেছে।
সব বিশ্লেষণ একত্র করলে বোঝা যায়—খাজার টেস্ট ক্যারিয়ার এখন এক সঙ্কটময় মোড়ে দাঁড়িয়ে। সামনে সুযোগ পেতে হলে তাঁকে শুধু সুস্থ হওয়াই নয়, ফর্ম ফিরে পাওয়াও জরুরি। না হলে হয়তো তাঁর দীর্ঘ, স্মরণীয় টেস্ট ক্যারিয়ারের পরিসমাপ্তি আরও ত্বরান্বিত হবে।