আধুনিক ফুটবলে কৌশল, গতি এবং খেলোয়াড় বুদ্ধিমত্তার সবকিছুর মিলন যেন দেখা গেল ন্যু ক্যাম্পে বার্সেলোনা এবং আতলেতিকো মাদ্রিদের লড়াইয়ে। বার্সা শীর্ষে থাকার লড়াই শক্ত করতে মাঠে নামলেও আতলেতিকোর সামনে ছিল বড় সুযোগ—জিতলে তারা রিয়াল মাদ্রিদকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসতে পারত। কিন্তু সিমিওনের দলের সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল বার্সার দুর্দান্ত আক্রমণভিত্তিক ফুটবলের সামনে।
ম্যাচ শুরু থেকেই আতলেতিকো আগ্রাসী ছিল। তারা চিরাচরিত ডিফেন্সিভ ব্লকের বাইরে এসে প্রেসিং করে বার্সার আক্রমণ গতি কমিয়ে দিতে চেয়েছিল। এবং তা সফলও হয় কিছুটা। বার্সার ডিফেন্স একবার ভুল করলে অ্যালেক্স বায়েনা গোল করে আতলেতিকোকে এগিয়ে দেন।
বার্সা পিছিয়ে পড়ার পর একদম নতুন ছন্দে খেলা শুরু করে। মাঝমাঠে পেদ্রি ও ডে ইয়ং বল নিয়ন্ত্রণ নেয়। ইয়ামাল ডানদিকে ড্রিবলিং করে আতলেতিকো রক্ষণ ব্যস্ত রাখেন। এই চাপের ফল আসে দ্রুতই। পেদ্রির অসাধারণ পাসে রাফিনহা গোল করেন—একটি সত্যিকারের ব্যক্তিগত দক্ষতার প্রদর্শনী।
প্রথমার্ধের শেষের দিকে বার্সা পেনাল্টি পেলেও লেভানডফস্কির শট অনেক ওপরে উঠে যায়। এই মুহূর্তে আতলেতিকো কিছুটা স্বস্তি পেলেও খেলার গতি তখন পুরোপুরি বার্সার দখলে।
দ্বিতীয়ার্ধে বার্সা আরও আক্রমণতর হয়ে ওঠে। ফ্লিক মাঝমাঠে গতি বাড়াতে নির্দেশ দেন। ইয়ামাল এবং রাফিনহার দুইদিকে উইং থেকে ক্রস আসতে থাকে একের পর এক।
৬৫ মিনিটে দানি ওলমো বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শটে গোল করেন। এই গোল ম্যাচে টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু শট করার সময় কাঁধে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।
আতলেতিকো এরপর ম্যাচে ফেরার বড় সুযোগ পায়। আলমাদা খালি পোস্ট সামনে পেয়েও শট উড়িয়ে দেন। এই মিস শুধু ম্যাচের সামগ্রিক ফলই বদলায়নি, বদলে দিয়েছে আতলেতিকোর মানসিক অবস্থা।
শেষ মুহূর্তে বালদের ক্রসে ফেরান তরেসের গোল বার্সাকে জয়ের হাসি এনে দেয়।
এই জয়ে বার্সা পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করে। লিগের শিরোপা দৌড়ে তারা এখন আরও শক্ত প্রার্থী। আতলেতিকো মাদ্রিদ ৩১ পয়েন্ট নিয়ে চারে থাকলেও তাদের লক্ষ্য এখন শুধু প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা নয়—ফিরে আসার পথ খুঁজে বের করা।



