খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
পাবনার ঈশ্বরদীতে আটটি কুকুরছানাকে বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত নিশি রহমান (৩৮)–কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন ঈশ্বরদী থানায় মামলা করার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
থানা ওসি আ স ম আব্দুন নূর জানান, প্রাণী কল্যাণ আইন–২০১৯ এর ৭ ধারায় মামলা হয়েছে এবং ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়নের স্ত্রী নিশি রহমান এ মামলার একমাত্র আসামি। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, মামলা হওয়ার পর নিশি রহমান ঈশ্বরদী পৌর সদরের রহিমপুর গার্লস স্কুলের পাশে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন, সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বুধবার আদালতে পাঠানো হবে।
মামলার বাদী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন জানান, ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আক্তারও এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ফোন করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের অমানবিক কাজ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এবং প্রাণী হত্যায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত নারীর স্বামী ও ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়নকে সোমবারই গেজেটেড কোয়ার্টার ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং তারা মঙ্গলবার কোয়ার্টার খালি করেন।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, ইউএনওর বাসভবনের এক কোণায় ‘টম’ নামে একটি মা কুকুর দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয় নিয়েছিল। এক সপ্তাহ আগে সে আটটি বাচ্চা প্রসব করে। রবিবার রাতে কোনো একসময় বাচ্চাগুলো বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। সোমবার সকালে ছানাগুলোর মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং দুপুরে সেগুলো ইউএনওর বাসভবনের পাশে মাটি চাপা দেওয়া হয়।
খবরওয়ালা/টিএসএন