খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
টপ–ফোরের স্বপ্ন নিয়ে মৌসুম শুরু করা নিউক্যাসল ইউনাইটেড এখন এমন এক সংকটে পড়েছে, যা শুধু পয়েন্ট টেবিলেই নয়, মানসিক দিক থেকেও দলকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। টটেনহ্যামের বিপক্ষে ২–২ ড্র নিউক্যাসলের জন্য ছিল শুধুই পয়েন্ট হারানো নয়—বরং এটি দলটির অন্তর্নিহিত দুর্বলতা প্রকাশের আরও একটি প্রকাশ্য উদাহরণ।
৯৫তম মিনিটে স্পার্স অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর অ্যাক্রোবেটিক গোল যেন পুরো ম্যাচের গল্প পাল্টে দিল। ম্যাচের উত্তরার্ধে নিউক্যাসল বল নিয়ন্ত্রণ, লিড ধরে রাখা এবং প্রতিপক্ষের চাপ মোকাবিলার ক্ষেত্রে সবকিছুতেই ব্যর্থ হয়। এই ব্যর্থতা নতুন নয়—বরং মৌসুমজুড়ে চলা এক পুনরাবৃত্ত চিত্র।
পরিসংখ্যান আরও উদ্বেগজনক—নিউক্যাসল এগিয়ে থেকেও সবচেয়ে বেশি ১১ পয়েন্ট হারিয়েছে, যা যে কোনও উচ্চাভিলাষী দলের জন্য মৌসুমের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় বলা যায়। লিভারপুল, আর্সেনাল, ওয়েস্ট হ্যাম এবং এবার টটেনহ্যাম—প্রতিটি ম্যাচেই শেষ মুহূর্তে রক্ষণভাগের ভাঙন তাদের বড় ক্ষতির কারণ।
এডি হাওয়ের কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। শেষ ১৫ মিনিটে দল কেন এত দুর্বল? কেন মাঝমাঠে বল ধরে রাখার সক্ষমতা নেই? কেন ডিফেন্ডারদের মনোযোগ হঠাৎ করেই কমে যায়? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে না পেলে নিউক্যাসলের মৌসুম আরও গভীর সমস্যায় পড়বে।
গর্ডনের গোলে নিউক্যাসল যখন এগিয়ে যায়, তখন মনে হচ্ছিল দলটি তিন পয়েন্ট পেয়ে যাবে। গ্যালারি তখন উল্লাসে মাতোয়ারা। কিন্তু ফুটবলের নির্মম সত্য—শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত নয়।
নিউক্যাসলের এই ধসের ফলে তাদের টপ–ফোর রেস যেমন কঠিন হয়ে গেল, তেমনি ক্লাবের অভ্যন্তরে চাপও বাড়বে। দলটির স্কোয়াড গভীরতা, ইনজুরি সমস্যা এবং ডিফেন্সিভ স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। আর স্পার্সের কামব্যাক প্রমাণ করল—তারা মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই করার ক্ষমতা আছে।