খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গুলি ও গলা কেটে মানুষ হত্যার ঘটনা নৈমিত্তিক হয়ে উঠেছে। গত এক মাসে তিনজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় আরও কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। রাতে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়ে এক বিএনপি নেতাকে লক্ষ্য করেছে। অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার ও খুন-খারাবির ঘটনায় জেলা জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বাঞ্ছারামপুরের সাবেক ইউপি সদস্য মো. মুছা মিয়ার গলাকাটা লাশ গত রোববার সন্ধ্যায় উদ্ধার করা হয়। ছলিমাবাদ ইউনিয়নের হোসেনপুর পাঠামারা জোয়ারার বিলে তার রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়। তার ছেলে মো. উজ্জল মিয়া জানান, ড্রেজার ব্যবসায়ী মোস্তফা মিয়া ফোন করে বাবাকে গলাকেটে হত্যার খবর দেন। এর আগে ২৭শে নভেম্বর গভীর রাতে সাদ্দাম হোসেন (৩৭)কে বাড়ি থেকে ডেকে এনে গুলি ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।
সেদিন সন্ধ্যা থেকে শহরের কান্দিপাড়া এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। লায়ন শাকিল (শাকিল সিকদার) নামে উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ককে মাদ্রাসা রোডে বন্দুক নিয়ে দৌড়াতে এবং গুলি করতে দেখা যায়। তার ছোড়া গুলিতে তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। তারা হচ্ছেন টুটুল মিয়া (৪৬), শিহাব উদ্দিন ওরফে শোয়েব (২৭) এবং মো. সানজু (২২)। কিছুক্ষণ পরে বাড়ির গেটে মারধরের ঘটনা ঘটে রবিন নামে এক ব্যক্তিকে, এবং তার ছোট ভাই রিজনও আহত হন।
ছাত্রদলের সাবেক কর্মী সাদ্দাম হোসেনকে হত্যা করার ঘটনায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন দিলীপকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। শাকিল ও দিলীপের আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে শহরের কান্দিপাড়া উত্তপ্ত ছিল। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বলেন, ঘটনার ফলে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। হত্যার মামলার প্রধান আসামি দেলোয়ার হোসেন দিলীপ ও বাবুল মিয়া র্যাবের অভিযানে ঢাকা থেকে রোববার রাতে গ্রেপ্তার হন।
এর আগে ১লা নভেম্বর নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দিতে রেস্তরাঁয় বসে থাকা শিপন মিয়া (৩৮)কে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুলিবিদ্ধ হন এবং ঢাকায় হাসপাতালে মারা যান। র্যাব-৯ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্যাম্প অভিযানে মূল অভিযুক্ত রিফাত আহমেদ (২৫) ও সহযোগী লিমন মিয়াকে ১০ই নভেম্বর গ্রেপ্তার করে।
এছাড়া ২৪শে অক্টোবর নবীনগর শহরের পশ্চিমপাড়ায় উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান মুকুল গুলিবিদ্ধ হন। গত ৩/৪ মাসে আরও কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ঘটে, যার মধ্যে কলেজছাত্রী ফারজানা আক্তার জুঁই ও উমর হাসানের হত্যা রয়েছে। পুলিশের নির্যাতনে আব্দুল্লাহ (২৭) মারা যান।
২৫শে অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুরে বল্লমের আঘাতে মো. নাসির উদ্দিন নিহত হন এবং আরও ৩০ জন আহত হন। ২৩শে নভেম্বর সরাইলের দেওড়া গ্রামে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আরফোজ মিয়া (৫৫) নিহত হন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওবায়দুর রহমান জানিয়েছেন, তারা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছেন।
খবরওয়ালা /এসএস