খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণ ইস্যুতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। মাগুরা সরকারি মডেল স্কুল মাঠে আন্তঃকলেজ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “জাতীয় পার্টির নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব ইচ্ছা। সরকার এ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করছে না।” এই মন্তব্য নির্বাচনকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রেস সচিব আরও বলেন, জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ কোনো দল নয় এবং আইন অনুযায়ী তারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখে। তবে তিনি দলটির অতীত ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, জাতীয় পার্টি অতীতে বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচারের ‘দোসর’ হিসেবে কাজ করেছে এবং বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ‘অকার্যকর সমর্থন’ দিয়ে বিভিন্ন অন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
শফিকুল আলম অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংঘটিত নানা অনিয়মের পেছনে রাজনৈতিক সহায়তা হিসেবে জাতীয় পার্টির ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোতে দলটি আড়াল থেকে নৈতিক এবং রাজনৈতিক সমর্থন দিয়ে গিয়েছে। তার মতে, এটি ইতিহাসের অংশ, যা ভবিষ্যতেও আলোচনায় থাকবে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেন যে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং কোনো শক্তি তা প্রতিহত করতে পারবে না। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন করেছে এবং সরকার চায় অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা ইস্যুতেও তিনি মন্তব্য করেন। তার বক্তব্য—তারেক রহমানের দেশে ফেরায় সরকারের কোনো নিষেধাজ্ঞা বা বাধা নেই; এটি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত ও তার দলের সিদ্ধান্ত।
‘মাইনাস ফোর ফর্মুলা’ নিয়ে চলমান বিতর্কের জবাবে তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে কখনো এমন কোনো ফর্মুলা ঘোষণা করা হয়নি। যারা এ নিয়ে আলোচনা করছেন, তারা নিজেরাই অতীতে স্বৈরাচারী শক্তির সহযোগী ছিলেন। বরং তিনি দাবি করেন—যারা অপরাধে জড়িত, বিচারিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী তারাই ‘মাইনাস’ হচ্ছেন।
এ ছাড়াও তিনি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ড ও আন্দোলন দমনের ঘটনাগুলো তুলে ধরে জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব হত্যার প্রমাণ স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। তিনি বলেন, হত্যাকারীদের ফিরিয়ে এনে বিচার করা সরকারের অঙ্গীকার।
এর আগে তিনি মাগুরায় আন্তঃকলেজ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন, যেখানে ৯টি কলেজীয় দল টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে। জেলা প্রশাসন ও ক্রীড়া অফিসের সহযোগিতায় আয়োজিত এ টুর্নামেন্ট স্থানীয় ক্রীড়া অঙ্গনে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছে।