খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশে দ্রুত বাড়ছে ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। চিকিৎসকদের মতে, এই রোগে আক্রান্ত হলে ওষুধের পাশাপাশি জীবনযাপনের পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়াম ও হাঁটাকে তারা সবচেয়ে কার্যকর পন্থা হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে রোগীদের একটি সাধারণ প্রশ্ন—একটানা ৩০ মিনিট হাঁটতে হবে, নাকি সময় পেলেই অল্প অল্প হাঁটলেই চলবে?
ডায়াবেটিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনে ৩০ মিনিট হাঁটা বাধ্যতামূলক, তবে তা একটানা হতে হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই। রোগী যেভাবে সুবিধা পান—
১০+১০+১০ মিনিট
অথবা ১৫+১৫ মিনিট
এভাবে ভাগ করে হাঁটলেও একই উপকার পাওয়া যায়।
তাদের মতে, হাঁটার মূল লক্ষ্য হলো শরীরকে সক্রিয় রাখা এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ানো।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা বলেন, “আমাদের অনেকেই মনে করি একটানা হাঁটলে সুগার দ্রুত কমবে। তবে বাস্তবে দিনের যেকোনো সময়ে বিরতি দিয়ে হাঁটা—এটিও খুব কার্যকর।”
তবে তারা এটিও বলেন, কেউ যদি শারীরিকভাবে সক্ষম হন এবং একটানা হাঁটার অভ্যাস থাকে, তাহলে তা বজায় রাখতে পারলে আরও ভালো।
হাঁটার ক্ষেত্রে গতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—
জোরে হাঁটুন
শরীর গরম হবে এমন গতি বজায় রাখুন
শুধুমাত্র ধীরে বা আরাম করে হাঁটলে সুগার নিয়ন্ত্রণে আসবে না
এই ধরণের হাঁটা শরীরের ক্যালরি খরচ বাড়ায় এবং রক্তে গ্লুকোজ কমাতে সাহায্য করে।
সময় কোনো নির্ধারক নয়।
সকাল-বিকেল আলাদা করে হাঁটতে হবে—এমন ধারণা ভুল।
সকাল, দুপুর, বিকেল বা রাত—
যখন সময় পাবেন, তখনই হাঁটুন।
মর্নিং ওয়াক ও ইভনিং ওয়াক—উভয়ই সমান কার্যকর।
শুধু হাঁটা নয়—ডায়েট কন্ট্রোলও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
যা খাবেন:
লো–গ্লাইসেমিক খাবার
উচ্চ ফাইবারযুক্ত শাকসবজি
মাছ, ডিম, মাংস (পরিমিত)
যা এড়িয়ে চলবেন:
মিষ্টি ও চকোলেট
কোল্ড ড্রিংক
প্রসেসড ও ফাস্ট ফুড
সঙ্গে নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ অপরিহার্য।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হাঁটা—
রক্তে গ্লুকোজ কমায়
ওজন নিয়ন্ত্রণ করে
হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমায়
মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে
এ কারণে তারা চান ডায়াবেটিক রোগীরা প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিটের শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখুক।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ব্যায়াম ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের বিকল্প নেই। একটানা হাঁটা বা বিরতি দিয়ে হাঁটা—উভয়ই সুগার কমাতে কার্যকর। তবে মূল বিষয় হলো নিয়মিত হাঁটা।
রোগীরা যে সময়েই হাঁটুন না কেন, শরীরকে সক্রিয় রাখাই তাদের সুস্থতার মূল চাবিকাঠি।