খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘ইউএস–সৌদি ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’-এ ভবিষ্যৎ শ্রমবাজার নিয়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছেন প্রযুক্তি বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোক্তা এলন মাস্ক। টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী এই বিলিয়নিয়ার দাবি করেছেন—পরবর্তী ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে মানুষের বেশিরভাগ চাকরি আর থাকবে না, এমনকি কাজ করার প্রয়োজনীয়তাও কমে যাবে। তার ভাষায়, “মানুষ কাজ করবে শুধু আনন্দ বা ব্যক্তিগত তৃপ্তির জন্য, বাধ্যতামূলক আয়-উপার্জনের প্রয়োজন হবে না।”
মাস্কের মতে, বৈশ্বিক অর্থনীতি দ্রুত এমন এক যুগে প্রবেশ করছে যেখানে লক্ষ লক্ষ রোবট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে। তিনি টেসলার হিউম্যানয়েড রোবট ‘অপটিমাস’-কে এই পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছেন। মাস্ক জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে টেসলার মোট বাজারমূল্যের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত আসতে পারে এই অপটিমাস রোবট থেকে, যা মানুষের মতোই বিভিন্ন জটিল কাজ দক্ষতার সঙ্গে সম্পাদন করতে পারবে।
রোবোটিক্স ও AI-নির্ভর উৎপাদনব্যবস্থা যখন ব্যাপক স্বয়ংক্রিয়তা তৈরি করবে, তখন মানুষের শ্রম খরচ ও দক্ষতা আর আগের মতো মূল্য ধরে রাখতে পারবে না। মাস্কের ভাষায়, “কাজের দরকার ফুরিয়ে যাবে, কারণ মেশিনগুলো মানুষের চেয়ে দ্রুত, নিখুঁত এবং কম খরচে কাজ করতে পারবে।”
মাস্ক তার বক্তব্যে “ইউনিভার্সাল হাই ইনকাম” ধারণাটি সামনে নিয়ে আসেন। এটি “ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম (UBI)”–এর একটি উন্নত সংস্করণ, যেখানে নাগরিকরা কাজ না করলেও একটি উচ্চমাত্রার জীবিকা ভাতা পাবে। মাস্ক মনে করেন, স্বয়ংক্রিয় অর্থনীতিতে উৎপাদন হবে বিপুল, কিন্তু মানুষের শ্রমের প্রয়োজন কমে যাবে। সেই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠানগুলো নাগরিকদের আয়ের নিশ্চয়তা দিতে বাধ্য হবে।
তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যৎ সমাজে অর্থের ধারণার গুরুত্ব কমে আসতে পারে। মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত হবে স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থার মাধ্যমে। সম্পদ ভাগাভাগির নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হবে।”
মাস্কের বক্তব্য বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তুললেও অর্থনীতিবিদদের একটি বড় অংশ তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, রোবট ও AI কর্মক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করলেও মানবশ্রম পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে—এমন ধারণা অতিরঞ্জিত।
বিশ্লেষকদের বক্তব্য অনুযায়ী—
প্রযুক্তি উন্নতির পাশাপাশি রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা, ন্যায্য সম্পদবণ্টন, করনীতি, বহুজাতিক করপোরেশনের স্বার্থ—এসব বিষয়ও ভবিষ্যৎ শ্রমবাজার নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
স্বয়ংক্রিয়তার কারণে চাকরি কমলেও সমান সংখ্যক নতুন চাকরি প্রযুক্তি খাতে তৈরি হবে—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অর্থনৈতিক বৈষম্য মোকাবিলা না করলে ‘ইউনিভার্সাল হাই ইনকাম’-এর বাস্তবায়ন অত্যন্ত কঠিন।
এলন মাস্কের বক্তব্য ভবিষ্যতের শ্রমবাজার, মানবসম্পদ উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা, শিল্পব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী দুই দশকই হবে মানবশ্রম বনাম যান্ত্রিক স্বয়ংক্রিয়তার মৌলিক রূপান্তরের যুগ, যা সমাজের কাঠামো পাল্টে দিতে পারে।