খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ৬ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলার আধ্যাত্মিক সঙ্গীতের আকাশে হাসন রাজা এক অনন্য দীপ্তি। ১৮৫৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের সুরমা তীরের লক্ষ্মণশ্রী গ্রামের ধনাঢ্য জমিদার পরিবারে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি জীবনের অন্তর্গত সত্য খুঁজতে গিয়ে হয়ে উঠেছিলেন মরমী সাধক, কবি ও দার্শনিক।
হাওর–বাওড়ের বিস্তৃত জলরাশি, মেঘালয়ের পাহাড়ের আঁকা-তোলা রঙিন দিগন্ত—এই প্রকৃতিই যেন তাঁর গানের জন্মস্থল। সুনামগঞ্জ আজও ‘হাসন রাজার দেশ’ নামে পরিচিত, অথচ তাঁর জন্ম-মৃত্যুতে বড় কোনো আয়োজন হয় না শহরে; নির্জনতাই যেন তাঁর পরম সঙ্গী।
জীবদ্দশায় হাসন রাজা রচনা করেছিলেন প্রায় ২০০ গান। এই গানগুলো সহজ ভাষায় মানবতার বাণী, অদৃশ্য প্রেমের আকুলতা এবং সৃষ্টিকর্তার আহ্বানে ভরা। লালন শাহের পর বাংলার দর্শনচেতনার সঙ্গে সঙ্গীতকে গভীরভাবে মিলিয়ে যিনি ছিলেন, তিনি হলেন এই দেওয়ান হাসন রাজা।
সকল ধর্ম-বর্ণের সীমা পেরিয়ে তিনি মানুষের গান গেয়েছেন—
“সোনা বন্ধে আমারে দেওয়ানা বানাইলো”,
“মাটির পিঞ্জরার মাঝে বন্দি হইয়া…”,
“মরিলে হইব মাটিতে বাসা”—
এই গানগুলো কেবল সঙ্গীত নয়, একেকটি আধ্যাত্মিক উপলব্ধি এবং জীবন ও মৃত্যুর ওপারে তাকানোর জানালা।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও তাঁর প্রতিভায় মুগ্ধ হয়েছিলেন। ১৯২৫ সালে কলকাতায় এবং ১৯৩৩ সালে লন্ডনের হিবার্ট বক্তৃতায় তিনি হাসন রাজার দুটি গানের বিশেষভাবে প্রশংসা করেন। এটি প্রমাণ করে তাঁর শিল্প কত গভীরভাবে হৃদয় ছুঁতে পারে।
আজ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তাঁর গান ও দর্শনের চর্চা অনেকটাই কম। অথচ হাসন রাজা আমাদের লোকজ ঐতিহ্যের অমূল্য সম্পদ এবং বাংলার আত্মার গভীরতম স্পন্দন।
১৯২২ সালের ৬ ডিসেম্বর পৃথিবীর বুক ছেড়ে নিভৃতে বিদায় নেন এই মরমী সাধক। তবে তাঁর গান ও দার্শনিক বাণী আজও নদীর স্রোতের মতো বয়ে যায়, মানুষকে ডাক দেয় নিজের ভেতর ফিরে যেতে এবং মাটির গন্ধে সৃষ্টিকর্তার সুর খুঁজে পেতে।
নমিত শ্রদ্ধা কবি হাসন রাজার প্রতি—যাঁর গানে এখনো মানুষের মন কেঁদে ওঠে।
খবরওয়ালা /এসএস