খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
ঝালকাঠিতে নারী হয়রানি, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার এবং নৈতিক লঙ্ঘনের দায়ে একজন জামায়াত নেতা ও মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো—এক ছাত্রের মায়ের মুঠোফোনে বারবার কুপ্রস্তাব পাঠানো। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটি ব্যাপক অনুসন্ধানের পর অভিযোগগুলো সত্য বলে প্রমাণ পায়।
অভিযুক্ত ব্যক্তি মো. নুরুল্লাহ—তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষক। পাশাপাশি তিনি রানাপাশা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও ব্যক্তিগত জীবনে নৈতিক বিচ্যুতি নিয়ে গুঞ্জন ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক মাস আগে। সামাজিকমাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে নুরুল্লাহর একটি আপত্তিকর ভিডিও কলের অংশবিশেষ ভাইরাল হয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে তার অনৈতিক আচরণ স্পষ্ট হওয়ায় বিষয়টি মুহূর্তেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। এরপরই প্রকাশ্যে আসে আরও লজ্জাজনক অভিযোগ—মাদ্রাসায় চাকরির সুবাদে পরিচিত হওয়া এক ছাত্রের মায়ের ফোনে তিনি নিয়মিত কুপ্রস্তাব পাঠাতেন। বার্তাগুলোর ভাষা ছিল অশ্লীল ও অপমানজনক, যা দেখে পরিবারটি হতবাক হয়ে যায়।
অভিযোগ উঠার পর ছাত্রের পরিবারের লোকজন ক্ষোভে উত্তেজিত হয়ে নুরুল্লাহকে হেনস্তা করেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং দলের শীর্ষস্থানীয় পদধারীর এমন আচরণে জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঝালকাঠি জেলা জামায়াত এবং নলছিটি উপজেলা জামায়াত যৌথভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি সাক্ষ্য, ফোন রেকর্ড, ভিডিও ক্লিপসহ প্রমাণ সংগ্রহ করে। তদন্তে দেখা যায়—
অভিযুক্ত নুরুল্লাহ একাধিক নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করতেন,
অশোভন বার্তা পাঠানো ছিল অভ্যাসগত,
দলীয় দায়িত্ব পালনের সময়ও তিনি বেপরোয়া আচরণ করতেন,
তার কর্মকাণ্ড সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।
প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে পদ থেকে স্থগিত করা হয়। পরে সংগঠনের শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. ফরিদুল হক বলেন, “জামায়াতে ইসলামী কোনো ধরনের অনৈতিক আচরণ বরদাশত করে না এবং সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ণকারী ব্যক্তিকে নেতৃত্বে রাখার সুযোগ নেই।”
ঘটনা প্রকাশের পর এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বলেছেন, ধর্মীয় ধারণা প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানে থেকে এমন আচরণ সমাজের জন্য বিপদজনক। আবার কেউ মনে করছেন, সংগঠনের দ্রুত ও স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্যও উদাহরণ হতে পারে।
অভিযুক্ত নুরুল্লাহ একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করেও কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি। ফলে তার নিজের বক্তব্য অজানা রয়ে গেছে।