খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
টেকনাফের আলোচিত সাবেক ইউপি সদস্য মো. ইউনুস হত্যা মামলার আরেক প্রধান আসামি ও বর্তমান ইউপি সদস্য রেজাউল করিম পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। পুলিশ, চিকিৎসক, স্বজন এবং স্থানীয়দের মধ্যে এই মৃত্যু নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও আলোড়ন। এ ঘটনা শুধু একটি মৃত্যুকে কেন্দ্র করেই নয়, পুরো ইউনুস হত্যা মামলার ভবিষ্যৎ তদন্ত প্রক্রিয়াকেও নতুনভাবে আলোচনায় এনে দাঁড় করিয়েছে।
রেজাউল করিম ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউপি সদস্য এবং দরগাহপাড়া এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ মোট ১৩টি মামলা ছিল, যা তাকে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকতে বাধ্য করে। ৪ ডিসেম্বর র্যাব কক্সবাজারের ইউনিয়ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পুলিশ জানায়, রেজাউল গুরুতর শ্বাসকষ্টসহ জটিল রোগে ভুগছিলেন। হেফাজতে নেওয়ার পরও তাকে হাসপাতালে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পরিস্থিতির অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে রবিবার সকালে তার মৃত্যু ঘটে। পুলিশের দাবি—এটি স্বাভাবিক মৃত্যু। তবে স্থানীয় জনগণ, মানবাধিকার কর্মী এবং কিছু রাজনৈতিক নেতাদের মতে—হেফাজত অবস্থায় এমন মৃত্যু সবসময়ই প্রশ্নবিদ্ধ এবং এর স্বচ্ছ তদন্ত অপরিহার্য।
ঘটনার প্রেক্ষাপট বুঝতে হলে ইউনুস হত্যা মামলার প্রসঙ্গে ফিরে যেতে হবে। গত ৪ নভেম্বর সাবেক ইউপি সদস্য মো. ইউনুসকে অপহরণ করা হয় এবং তার পরিবারের কাছে ৬০–৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ৫ নভেম্বর লাশ উদ্ধার হওয়ায় হত্যাকাণ্ড চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ৬ নভেম্বর ইউনুসের স্ত্রী আটজনকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেন, যার মধ্যে রেজাউল করিমও ছিলেন।
রেজাউলের মৃত্যু এখন মামলার এক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি করেছে। তদন্তকারীরা কি তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে পারতেন? অন্যান্য আসামিদের বিষয়ে তার বক্তব্য কী হতে পারত? এসব প্রশ্ন এখন তদন্ত প্রক্রিয়ার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে রেজাউলের পরিবার তার মৃত্যুর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তাদের নীরবতা আরও জল্পনা বাড়িয়েছে—তারা কি ভীত, নাকি তথ্য প্রকাশে অনিচ্ছুক? পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্ত শেষে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
টেকনাফ এমনিতেই মাদক, অপহরণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির জন্য পরিচিত একটি এলাকা। ইউনুস হত্যা ও এখন আসামির মৃত্যু ঘটনাকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। অনেকেই মনে করছেন—এটি টেকনাফে দীর্ঘদিন ধরে চলা অপরাধচক্রের আরেকটি প্রতিচ্ছবি।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি শুধু একটি মৃত্যুর ঘটনা নয়—বরং এটি টেকনাফের সামগ্রিক আইন পরিস্থিতির প্রতিফলন। তারা স্বচ্ছ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি ও হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি তুলেছেন।