খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি বছর পার হলেও ব্যাংক খাতের লেনদেন এখনও স্বাভাবিক হয়নি। প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও নানা ব্যাংকের বহু আমানতকারী তাদের জমা রাখা টাকা তুলতে পারছেন না। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, খুব শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে সরকারি অর্থে সংকট কাটানোর প্রচেষ্টা কার্যকর ফল বয়ে আনবে না।
ব্যাংকে জমানো নিজের প্রয়োজনীয় অর্থ তুলতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন মনির হোসেন। শুধু তিনি নন, একই পরিস্থিতির মুখোমুখি পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের ৯২ লাখ গ্রাহক, যারা বহুদিনের আর্থিক অনিয়ম, অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এবং খেলাপি ঋণের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন। এ ব্যাংকগুলোকে নিয়ে গঠিত হয়েছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ১৮ লাখ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ। শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক—সোশ্যাল ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি, ইউনিয়ন ও এক্সিম ব্যাংকের ঋণের ৭৬ শতাংশই খেলাপি, যার পরিমাণ প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা।
এ অবস্থায় আমানতকারীরা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক আশ্বস্ত করছে যে শিগগিরই টাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হবে। তবে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসাইন খান বলেন, যখন পরিশোধিত মূলধনের ২০ হাজার টাকা চলে আসবে তখন গ্রাহকরা টাকা পাবেন। খুব বেশি সময় লাগবে না। ব্যাংকের লাইসেন্স হস্তান্তর হওয়ায় এটি এখন সময়সাপেক্ষ; কিছু টেকনিক্যাল বিষয় আছে, বড় কোনো আইনগত জটিলতা নেই।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ বলেন, গ্রাহকদের অর্থ ফেরানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে কতটা সংকট কাটবে তা নিয়ে তিনি সন্দিহান।
ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, টাকা রাখার উদ্দেশ্যই হলো প্রয়োজনমতো তা ব্যবহার করা সম্ভব হবে। অনেকে দুই হাজার টাকাও তুলতে পারছেন না—এ ধরনের দুর্ভোগ গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি ব্যাংক খাতকে আরও দুর্বল করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহাদাত হোসাইন সিদ্দিক জানান, ব্যাংক চলে বিশ্বাসের ওপর। স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে না পারলে জনগণের বিশ্বাস অর্জন করা সম্ভব নয়। সরকারের বিনিয়োগেও ভবিষ্যতে অর্থ ওঠে আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেবে। তাই খেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপ জরুরি।
এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, আমানতকারীরা তাদের অর্থ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত আমানতের ওপর মুনাফা পেয়ে যাবেন।
খবরওয়ালা /এসএস