খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ৯ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার লায়লা আফরোজ ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজকে শেষ পর্যন্ত তাঁদের গ্রামের বাড়ি নাটোরে দাফন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বাদ জোহর নাটোর শহরের গাড়িখানা কবরস্থানে তাঁদের দুজনের দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত নামাজে জানাজায় পরিবারের সদস্য ছাড়াও স্থানীয় হাজারো মানুষ উপস্থিত হয়ে শোকপ্রকাশ করেন।
মঙ্গলবার ভোরে লাশ দুটি নিয়ে যাওয়া হয় নাটোর শহরের বড়গাছা এলাকার পুরোনো পৈতৃক বাড়িতে, যা নিহত লায়লার শ্বশুর এ জেড এম আজিজুল ইসলামের বাড়ি। মরদেহ পৌঁছানোর পর থেকেই সেখানে ভিড় জমতে থাকে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিত মানুষের। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন, আর পুরো এলাকা শোকের ছায়ায় ঢেকে যায়।
লায়লা আফরোজ (৪৮) ছিলেন একজন গৃহিণী। তাঁর মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫) মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত সোমবার সকালে রাজধানীর শাহজাহান রোডের নিজ বাসায় তাদের গলা কেটে হত্যা করা হয়। এই নির্মম হত্যাকাণ্ড মুহূর্তে জাতীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।
নিহত নাফিসার বাবা, ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলশিক্ষক এ জেড এম আজিজুল ইসলাম, ঘটনার সময় স্কুলে কর্মরত ছিলেন। বাড়ি ফিরে তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও নাফিসাকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। লায়লা আফরোজও পরে মৃত্যুবরণ করেন। এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন বলে জানান পরিবারসূত্র।
ঘটনার পর জানা যায়, মাত্র চার দিন আগে কাজে যোগ দেওয়া খণ্ডকালীন গৃহকর্মী আয়েশাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ জেড এম আজিজুল ইসলাম মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা মামলাতেও তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর আয়েশা বাথরুমে গোসল করে নাফিসার স্কুলড্রেস পরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়, যাতে তাকে সহজে শনাক্ত করা না যায়। তবে ঘটনাটির ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
স্থানীয়রা জানান, মা-মেয়েকে হারিয়ে পরিবার সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। এলাকায় এমন নির্মম ঘটনার নজির খুব কমই রয়েছে। পুলিশ বলছে, হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ টিম কাজ করছে এবং দ্রুত আসামিকে ধরা সম্ভব হবে।