খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে মা লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তাঁর স্কুলপড়ুয়া মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ (১৪)-এর নির্মম হত্যাকাণ্ডে স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো দেশ। সোমবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য দেখে তদন্ত কর্মকর্তারাও বিস্মিত। লাশের সুরতহাল, আঘাতের ধরন এবং হত্যাকারীর পালানোর কৌশল দেখে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা—ঘাতক হয় প্রশিক্ষিত কোনো কিলার, নয়তো অতিরিক্ত ক্ষোভে উন্মত্ত কোনো সাইকোপ্যাথ।
পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য, যা সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর কোনো হত্যাকাণ্ডে দেখা যায়নি। নিহত লায়লা আফরোজের শরীরে মোট ৩০টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে—যার অনেকগুলোই গভীর ও ধারালো অস্ত্রের আঘাত।
নীচের টেবিলে সুরতহালের উল্লেখযোগ্য আঘাতগুলো তুলে ধরা হলো—
| স্থান | আঘাতের সংখ্যা |
|---|---|
| বাম গাল | ৩ |
| থুতনি | ৪ |
| গলার নিচে | ৫ |
| বাম হাত | ৩ |
| দুই হাতের কব্জি | ৩ |
| বুকের বাম পাশ | ৯ |
| পেটের বাম পাশ | ২ |
| তলপেট | ১ |
অন্যদিকে, কিশোরী নাফিসার শরীরেও গলা, বুক এবং দুই পাশে ৬টি গভীর ক্ষত পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের মতে, দুজনের মৃত্যুর কারণ অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ।
ঘটনাস্থল থেকে দুই ধরনের ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ—
১) সাধারণ সবজি কাটার ছুরি
২) বিশেষ ধরনের ‘সুইচ গিয়ার’ অস্ত্র, যা আঙুলে আটকানো যায় এবং আঘাতের সময় হাত থেকে পিছলে যায় না।
তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, দ্বিতীয় অস্ত্রটি সাধারণত ঘরের কাজে ব্যবহৃত হয় না। এটি ঘাতকের পূর্ব পরিকল্পনা ও দক্ষতার ইঙ্গিত দেয়।
তদন্তে আরও জানা গেছে—হত্যাকাণ্ডের পর খুনি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বাথরুমে গোসল করে, নিজের রক্তমাখা পোশাক খুলে নিহত মেয়ের স্কুল ড্রেস পরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। পুলিশের মতে, এমন ধীরস্থির আচরণ সাধারণ খুনির নয়।
এই ঘটনায় গৃহকর্মী আয়েশাকে একমাত্র সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়েছে। তিনি এখনো পলাতক।
তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান জানান—
“নৃশংসতা দেখে মনে হচ্ছে ঘাতক প্রশিক্ষিত হতে পারে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ অস্ত্র ব্যবহার এবং স্কুল ড্রেস পরে পালানো—এসবই ইঙ্গিত দেয়, এটি পরিকল্পিত হতে পারে।”
পুলিশ বলছে, পলাতক গৃহকর্মী আয়েশাকে গ্রেপ্তার করা গেলে এই নৃশংস জোড়া খুনের প্রকৃত কারণ ও উদ্দেশ্য পরিষ্কার হবে।
মা ও মেয়ের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় সোমবার রাতেই।
আজ মঙ্গলবার বাদ জোহর নাটোর শহরের গাড়ীখানা কবরস্থানে তাঁদের দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে জানাজায় অংশ নেন স্বজন ও স্থানীয় হাজারো মানুষ। শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়।