খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ১০ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের বীমা শিল্পের নীতিনির্ধারণ, তদারকি ও সমন্বয়ে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসা কেন্দ্রীয় সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ) তাদের বহুল প্রত্যাশিত ৩৮তম বার্ষিক সাধারণ সভা আগামী ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, সোমবার, সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে আয়োজন করতে যাচ্ছে। রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী সেন্টার (লেভেল–২)–এ অনুষ্ঠিত এ সভায় দেশের বীমা খাতের সার্বিক অগ্রগতি, আর্থিক অবস্থা, নীতিমালা সংস্কার এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
বিআইএর সভাপতি, সহ-সভাপতি ও নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে পাঠানো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এবারের সভায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্যসূচি প্রাধান্য পাবে—
১. ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন, আলোচনা ও অনুমোদন
২. ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত হিসাব অনুমোদন
৩. ২০২৫ সালের জন্য নতুন নিরীক্ষক নিয়োগ ও পারিশ্রমিক অনুমোদন
সভায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সদস্য কোম্পানিগুলোকে চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান/পরিচালক এবং মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা— এ তিনজন প্রতিনিধির নাম, মোবাইল নম্বর ও ই–মেইল ঠিকানা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিআইএর মতে, সঠিক তথ্য সরবরাহ এবং উপস্থিতি নিশ্চিত করাই সভার সফল আয়োজনের অন্যতম শর্ত।
বিআইএর সচিব সদস্যদের উদ্দেশে বিশেষভাবে অনুরোধ করে বলেন—
“প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে মনোনীত তিনজন প্রতিনিধির সময়মতো উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি।”
বীমা খাত বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশসহ বৈশ্বিক অর্থনীতি বর্তমানে চাপে থাকায় এবারের বার্ষিক সাধারণ সভার গুরুত্ব পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বীমা শিল্পকে বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে—
দাবি নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা
বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা ও লাভজনকতার হ্রাস
নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর নির্দেশনা
বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি
গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তা
এসব প্রেক্ষাপটে এবারের সভায় আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত, নিরীক্ষা প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন, কর্পোরেট গভর্ন্যান্স জোরদার, এবং গ্রাহকবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একজন অভিজ্ঞ বীমা বিশ্লেষক মন্তব্য করেন—
“একটি বার্ষিক সাধারণ সভা কেবল প্রতিবেদন অনুমোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং এটি বীমা খাতের ভবিষ্যত স্থিতিশীলতা, কৌশলগত উন্নয়ন ও জনআস্থা পুনর্গঠনের একটি কেন্দ্রীয় মঞ্চ।”
বর্তমান যুগে বীমা সেবার উন্নয়ন শুধু কাগুজে নীতিতে সীমাবদ্ধ নয়— ডিজিটাল প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ, অনলাইন দাবি নিষ্পত্তি, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন এখন বীমা শিল্পের মূল চালিকাশক্তি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিআইএর এবারের সাধারণ সভায় এসব বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
বীমা খাতকে আরও টেকসই, স্বচ্ছ, আধুনিক ও গ্রাহকবান্ধব করে তুলতে নীতি সংস্কার, ডিজিটাল রূপান্তর, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় নতুন কৌশল গ্রহণের বিষয়গুলো সামনে আসবে বলে প্রত্যাশা।
সামগ্রিকভাবে, বিআইএর ৩৮তম সাধারণ সভা দেশের বীমা খাতে নতুন দিশা, বাজারে স্থিতিশীলতা এবং গ্রাহক আস্থা পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি করবে— এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই। এ সভা ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নির্ধারণের পাশাপাশি শিল্পকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির দিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।