খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
ঢাকার কেরানীগঞ্জে এলিগ্যান্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রতিষ্ঠানটির সহকারী শিক্ষক রমজান আলীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক রমজান আলীকে (৩১) গ্রেপ্তার করেছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে আদালত তাকে একদিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।
এর আগে গত রবিবার (৭ ডিসেম্বর) এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার ভিত্তিতে পুলিশ সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক রমজান আলী স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি ওই শিশুটিকে তার বাড়িতে গিয়েও ব্যক্তিগতভাবে পড়াতেন (প্রাইভেট)। গত ২৬ নভেম্বর শিশুটি স্কুল থেকে বাড়িতে ফিরে অসুস্থতা বোধ করলে তার মা তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে শিশুটি বাড়িতে ফিরে আসে। কিন্তু দু’দিন পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) রেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় এবং সেই পরীক্ষায় জানা যায় যে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অন্যদিকে, এই অভিযোগ প্রসঙ্গে এলিগ্যান্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার জাহিদ গণমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের স্কুলের শিক্ষক এমন জঘন্য কাজ করতে পারেন না। স্কুলের সুনাম নষ্ট করার জন্য একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ধরনের অপচেষ্টা করছে।” প্রধান শিক্ষকের এই বক্তব্য স্কুলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও শিক্ষকের ভাবমূর্তি রক্ষার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “এই ঘটনায় রমজান আলীর নাম উল্লেখ করে সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করেছি। অভিযুক্তকে ঘটনার বিষয়ে আরও বিশদভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আসামিকে আদালতে প্রেরণ করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। আদালত শুনানি শেষে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।”
তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও জানান, রিমান্ডে নিয়ে অভিযুক্তকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, যাতে ঘটনার সঠিক বিবরণ এবং এর পেছনের কারণ উদঘাটন করা যায়। এই ঘটনাটি এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। শিক্ষকতার মতো একটি পেশায় জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিশুটির পরিবার এই নির্মম ঘটনার জন্য অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।
শিশুটি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তার শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা ফিরিয়ে আনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, এবং একদিনের রিমান্ড শেষে অভিযুক্তকে পুনরায় আদালতে হাজির করা হবে।