খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
৩৬ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা, অগণিত সমালোচনা, চারটি ফাইনালের হৃদয়ভাঙা আক্ষেপ—সবকিছুর ভার বুকে নিয়েই তিন বছর আগে কাতারের মরুভূমিতে পা রেখেছিল আর্জেন্টিনা। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে শিরোপার এত কাছে গিয়েও শূন্য হাতে ফেরার যন্ত্রণা তখনো তাজা ছিল লিওনেল মেসি ও তার সতীর্থদের মনে। সেই ক্ষতই একসময় রূপ নেয় অদম্য শক্তিতে, যা কাতার বিশ্বকাপে আকাশি-নীলদের এগিয়ে নেয় ইতিহাসের পথে।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই সৌদি আরবের কাছে অপ্রত্যাশিত হারে আর্জেন্টিনার স্বপ্ন যেন ধাক্কা খায়। অনেকেই তখন বলতে শুরু করেন, মেসির বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বুঝি আর পূরণ হবে না। কিন্তু মাঠে ছিলেন এক অবিচল নেতা, ডাগআউটে ছিলেন কৌশলী মস্তিষ্ক লিওনেল স্কালোনি, আর পাশে ছিলেন একদল তরুণ যোদ্ধা—যারা ঠিক করে নিয়েছিল, যেভাবেই হোক তাদের অনুপ্রেরণা মেসির হাতে বিশ্বকাপ তুলে দেবেই।
১৮ ডিসেম্বর, লুসাইল স্টেডিয়ামের সেই রাত ফুটবল ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে আছে। ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স—যাদের কাছে ২০১৮ বিশ্বকাপে হতাশার বিদায় নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। নাটকীয় সেই ফাইনালে নির্ধারিত সময়, অতিরিক্ত সময় পেরিয়ে টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে হারিয়ে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপের ট্রফি ঘরে তোলে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির হাতে ওঠে বহু প্রতীক্ষিত সোনালি ট্রফি, পূর্ণতা পায় তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার। ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার হাত ধরে যে বিশ্বজয় শুরু হয়েছিল, তার উত্তরাধিকার যেন মেসির হাতেই এসে শেষ হয়।
কিন্তু গল্প কি এখানেই শেষ? সময় থেমে থাকে না। আবারও দরজায় কড়া নাড়ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। আগামী ১২ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় শুরু হচ্ছে ৪৮ দল নিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ আসর। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনা নামবে হট ফেভারিটের তকমা নিয়ে। আর বিশ্বজুড়ে কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থকের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—মেসির হাতে কি উঠবে আরেকটি বিশ্বকাপ?
শুধু সমর্থকরাই নন, আর্জেন্টিনা দলে থাকা প্রতিটি খেলোয়াড়ের মনেও একই স্বপ্ন। সবাই চান, নিজেদের জীবন্ত কিংবদন্তিকে আরেকটি বিশ্বকাপ উপহার দিয়ে রাজকীয় বিদায় জানাতে। মেসিও নিজের শেষ অধ্যায়টি রাঙাতে চান সাফল্যের আলোয়। আগামী ২০ জুন মেটলাইফ স্টেডিয়ামে তিনি ফিরিয়ে আনতে চান ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বরের সেই অবিস্মরণীয় রাতের স্মৃতি।
ফুটবল ইতিহাসে খুব কম খেলোয়াড়ই পেয়েছেন এমন সুযোগ—একাধিক বিশ্বকাপ জিতে বিদায় নেওয়ার। মেসির সামনে সেই সম্ভাবনার দরজা এখনো খোলা। প্রশ্ন একটাই, নিয়তি কি আরেকবার তার হাতে তুলে দেবে সোনালি ট্রফি, নাকি কাতারের গল্পই থেকে যাবে তার ক্যারিয়ারের শেষ ও শ্রেষ্ঠ অধ্যায়।