খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে পৌষ ১৪৩২ | ১৮ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির ভারত সফর শেষ হয়েছে আলোচনার ঝড় তুলে। একদিকে লাখো ভক্তের উন্মাদনা, অন্যদিকে বিশৃঙ্খলা, ভাঙচুর ও হতাশা—সব মিলিয়ে মেসির এই সফর ভারতের ক্রীড়াঙ্গনে রেখে গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিশেষ করে কলকাতার যুবভারতী স্টেডিয়ামে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার রেশ এখনো কাটেনি। এই ঘটনার দায়ভার নিয়ে এবার প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের ক্রিকেট কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার।
১৩ ডিসেম্বর কলকাতায় মেসির সফরের সূচনা থেকেই পরিস্থিতি ছিল অস্থির। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়ে দর্শকদের সামনে ঘোরার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। বহু দর্শক অভিযোগ করেন, টিকিট কেটে তারা মেসিকে ঠিকভাবে দেখতেই পাননি। ক্ষুব্ধ ভক্তদের একটি অংশ চেয়ার, বোতল ছোড়া এবং স্টেডিয়ামের ভেতরে ভাঙচুরে জড়িয়ে পড়ে। তবে হায়দরাবাদ, মুম্বাই ও দিল্লিতে মেসির পরবর্তী সফর ছিল তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে একটি কলাম লিখেছেন সুনীল গাভাস্কার। সেখানে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, কলকাতার বিশৃঙ্খলার জন্য লিওনেল মেসিই কি মূলত দায়ী নন? গাভাস্কার লেখেন, ঘোষিত সময়ের তুলনায় মেসি স্টেডিয়ামে অনেক কম সময় ছিলেন, যা দর্শকদের হতাশ করেছে। তার মতে, যদি চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় মাঠে থাকার কথা থাকে এবং সেটি পূরণ না হয়, তবে দায় এড়ানো যায় না।
গাভাস্কার আরও উল্লেখ করেন, মেসির নিরাপত্তা নিয়ে বড় কোনো হুমকি ছিল না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মেসি যদি শুধু মাঠ প্রদক্ষিণই না করে একটি পেনাল্টি কিক বা ছোট কোনো ফুটবল কার্যক্রমে অংশ নিতেন, তাহলে দর্শকদের প্রত্যাশা অনেকটাই পূরণ হতো। এতে ভিআইপি ভিড়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতো বলে তার ধারণা।
কলকাতার আয়োজকদের একতরফাভাবে দোষারোপ করার আগে সব দিক খতিয়ে দেখা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অন্য শহরগুলোতে সফর নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি প্রতিশ্রুতি রক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন।
ঘটনার দিন যুবভারতী স্টেডিয়ামে মেসি মাঠে ছিলেন মাত্র ২২ মিনিট। রাজনীতিবিদ, ভিআইপি, নিরাপত্তাকর্মী ও কর্মকর্তাদের ভিড়ে তিনি প্রায় আড়ালেই পড়ে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই তাকে স্টেডিয়াম ছাড়তে হয়।
সব মিলিয়ে মেসির ভারত সফর স্মরণীয় হলেও কলকাতার অভিজ্ঞতা রেখে গেছে প্রশ্ন, ক্ষোভ আর বিতর্ক। আর সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করলেন সুনীল গাভাস্কার, যিনি দায়ের জায়গা খুঁজতে গিয়ে সরাসরি বিশ্ব তারকার ভূমিকাকেই সামনে আনলেন।