Khaborwala Online Desk
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম মুখপাত্র ও ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিনিধি শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশজুড়ে নেমে আসে তীব্র ক্ষোভ ও শোক। পাহাড় থেকে সমতল—সর্বত্র এক অভিন্ন দাবি, “হাদি হত্যার বিচার চাই।” সাধারণ মানুষ, ছাত্রসমাজ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন রাজপথে নেমে আসে, যা দ্রুত রূপ নেয় গণআন্দোলনে।
বৃহস্পতিবার রাত থেকেই রাজধানী ঢাকা উত্তাল হয়ে ওঠে। শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা হাদিকে জুলাই অভ্যুত্থানের নায়ক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাকে হত্যা করে একটি আদর্শকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিক্ষোভে পতিত আওয়ামী লীগ ও বিদেশি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠে। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ব্যর্থতা তুলে ধরে তার পদত্যাগ দাবি করা হয়।
এই আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন জুলাই অভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। তারা শুক্রবার জুমার নামাজের পর দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ কিন্তু দৃঢ় কর্মসূচির ঘোষণা দেন। ছাত্র সংগঠন, ডাকসুর সাবেক ও বর্তমান নেতারাও এই আন্দোলনে সংহতি জানান।
হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে রাত ১০টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ি ও শনিরআখড়া এলাকায় ব্লকেড দেওয়া হয়। এর ফলে ঢাকা–চট্টগ্রাম, ঢাকা–মাওয়া ও ঢাকা–ডেমরা সড়কে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়। অসুস্থ রোগী, নারী ও শিশুদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়, যদিও আন্দোলনকারীরা এটিকে “রাষ্ট্রের ব্যর্থতার ফল” বলে উল্লেখ করেন।
রাতে উত্তরা ও মিরপুরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হলে ভেতরে আটকে পড়েন একাধিক গণমাধ্যমকর্মী। পরে দমকল বাহিনীর সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। ধানমণ্ডি ৩২ ও ছায়ানটেও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া যায়।
ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ হয় এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নওফেলের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। রাজশাহীতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় নগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়। সিলেট, বরিশাল, নেত্রকোনা, জামালপুর ও ঝালকাঠিসহ বিভিন্ন জেলায় রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, হাদি হত্যাকাণ্ড কেবল একটি রাজনৈতিক হত্যা নয়, এটি দেশের চলমান সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। দ্রুত বিচার ও স্বচ্ছ তদন্ত না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।