Khaborwala Online Desk
প্রকাশ: রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে ১৩ই ডিসেম্বর সংঘটিত নিষ্ঠুর ড্রোন হামলায় শহীদ হওয়া বাংলাদেশের ছয় শান্তিরক্ষীর মরদেহ শনিবার দেশে পৌঁছেছে। তাদের মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আনা হয়। দেশে ফেরার এই মুহূর্তে সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিমানবন্দর প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশে জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রতিনিধি, ইউনিসফার ফোর্স কমান্ডারের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা।
মরদেহ গ্রহণের সময় উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এরপর শহীদ শান্তিরক্ষীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে গার্ড অব অনার প্রদর্শন করা হয়। আইএসপিআর জানায়, আজ ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার পর শহীদদের মরদেহ তাদের নিজ নিজ জেলায় হেলিকপ্টারযোগে প্রেরণ করা হবে এবং যথাযথ সামরিক মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন করা হবে।
নিহত শান্তিরক্ষীরা হলেন নাটোরের করপোরাল মো. মাসুদ রানা, কুড়িগ্রামের সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম ও সৈনিক শান্ত মণ্ডল, রাজবাড়ীর সৈনিক শামীম রেজা, কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং গাইবান্ধার বাসিন্দা লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া। আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন কুষ্টিয়ার লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান, দিনাজপুরের সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন, ঢাকার করপোরাল আফরোজা পারভিন ইতি ও অন্যান্যরা।
এই হামলার পেছনে ছিল সুদানের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী, যারা কাদুগলি লজিস্টিকস বেইস লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায়। দেশে ফিরেই এই শহীদরা দেশের জনসম্মুখে তাদের সর্বোচ্চ সম্মান পান। এই ঘটনাটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষা মিশনে আত্মত্যাগের ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।