খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
যশোরের মণিরামপুরে ভোররাতে একটি আতঙ্কিত ডাকাতি ঘটেছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) ভোর সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার জলকর রোহিতা দাসপাড়ায় নির্মল দাসের বাড়িতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ৭-৮ জন মুখোশধারী ব্যক্তি প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল নিয়ে এসে গেট ভেঙে প্রবেশ করে। তারা বাড়ির গৃহকর্তা নির্মল দাস ও তার পরিবারকে মারপিট করে ৫-৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং ধান বিক্রির নগদ ৪০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
নির্মল দাস ও তার পরিবার জানায়, ভোররাতে দমবন্ধানো পরিস্থিতিতে ডাকাতরা হামলা চালায়। ডাকাতদের হাতে রড ও পিস্তল ছিল। নির্মল দাস বলেন, “আমি পালাতে গিয়েছিলাম, তারা মাথায় আঘাত করে মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর আমার স্ত্রী, মেয়ে ও জামাইকে মারপিট করে আলমারি ভেঙে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নেন। চিৎকার করলে তারা আমাদের দুই শিশুকে হত্যার হুমকি দেয়।”
তার স্ত্রী সুষমা রানী জানান, “আমি জানালা দিয়ে চিৎকার করার চেষ্টা করি, তখন তারা আমার মুখ চেপে ধরে মারপিট করে এবং পিস্তল দেখিয়ে খুনের হুমকি দেয়।”
ডাকাতির মূল লক্ষ্য ছিল নির্মল দাসের হাতে থাকা নগদ টাকা। সম্প্রতি তিনি ১৫০ মণ ধান বিক্রি করে আড়তদারের কাছে কিছু টাকা রেখে এক লাখ টাকা পান। হালখাতায় ৫৫ হাজার টাকা দেনা শোধ করে বাকি নগদ বাড়িতে রেখেছিলেন। ডাকাতরা বাড়ির অদূরে বাঁশতলায় প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল রেখে ঘটনা সংঘটিত করে এবং সেই গাড়িতে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে মণিরামপুর থানার ওসি রজিউল্লাহ খান ও খেদাপাড়া ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই শাহাবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আশপাশের বাজারের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আহত পরিবারকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং তারা সুস্থ হয়ে অভিযোগ করলে মামলা গ্রহণ করা হবে।
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| ঘটনা তারিখ ও সময় | ২০ ডিসেম্বর, শনিবার ভোর সাড়ে ৩টা |
| স্থান | জলকর রোহিতা দাসপাড়া, মণিরামপুর, যশোর |
| হামলাকারীর সংখ্যা | ৭-৮ জন মুখোশধারী |
| ব্যবহৃত যানবাহন | প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল |
| লুটকৃত জিনিসপত্র | ৫-৭ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৪০,০০০ টাকা |
| আহত | নির্মল দাস, তার স্ত্রী, মেয়ে ও জামাই |
| পুলিশ পদক্ষেপ | ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সিসি ফুটেজ সংগ্রহ, আহতদের হাসপাতালে প্রেরণ |
| তদন্তের অবস্থা | প্রাথমিক তদন্ত শুরু, মামলার জন্য পরিবারকে সুস্থ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা |
ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। মণিরামপুরের পুলিশ জানিয়েছে, তারা দ্রুত কৌশলগত তদন্ত চালিয়ে দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করবে।