Khaborwala Online Desk
প্রকাশ: সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের (সিসিডিএম) চেয়ারম্যান আদনান রহমান দিপন শনিবার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন যে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) গত ছয় মাসে যে আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে তা সাবেক প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপনের দেড় দশকের কার্যকালকেও ছাড়িয়ে গেছে। বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন যমুনা টেলিভিশনের ‘স্যাটারডে নাইট স্পোর্টস’ অনুষ্ঠানে।
দিপন বলেন, “এটি সবার চোখে আড়াল থাকা অবস্থায় প্রকাশ করা সম্ভব হত না। সরাসরি না দেখলে এটি বিশ্বাস করা কঠিন। আমি নিজে এই বিষয়টি চাক্ষুষ করেছি এবং সমস্ত হিসাব, কাগজপত্র ও ডকুমেন্টস এ দুর্নীতির প্রমাণ দেখাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বোর্ডের প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, ডিরেক্টররা, আইটি সেকশন এবং আইনের দফতর যৌথভাবে এই দুর্নীতির তদন্তে অংশ নেবে। তিনি বোর্ডের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখলেও প্রয়োজনীয় তদন্তে সরাসরি হস্তক্ষেপের কথা জানান।
দিপন ঘরোয়া ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ও ম্যাচ সংখ্যা নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি জানান, “আমরা সবসময় ক্রিকেটারদের কল্যাণে কাজ করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সার্বিকভাবে খেলোয়াড়দের সমস্যা সমাধান করা এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের মান উন্নয়ন করা।”
বিসিবিতে চলমান এই আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় সিসিডিএমের অবস্থান স্পষ্ট। তারা বোর্ডের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি রোধের জন্য সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন। ইতিমধ্যে কিছু হিসাব ও নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
দিপনের বক্তব্যে বোঝা যায়, বিগত ছয় মাসে যে ধরনের আর্থিক অনিয়ম ঘটেছে তা শুধু সংখ্যাগত নয়, বরং কাঠামোগতভাবেও বিস্তৃত। বোর্ডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ থাকায় এই সমস্যা কেবল আর্থিক হিসাবের সীমাবদ্ধতায় নেই; এটি নীতি ও স্বচ্ছতার ওপরও আঘাত হানছে।
ক্রিকেট অঙ্গনে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে দেশের ক্রিকেট ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দিপনের বক্তব্য অনুযায়ী, বোর্ডের অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আইনি ও প্রশাসনিক দফতরের যৌথ তদন্ত অপরিহার্য।