খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
গ্র্যামি জয়ী গায়িকা মেগান ট্রেইনর আবারও সংবাদ শিরোনামে চলে এসেছেন—এইবার শুধু তাঁর সঙ্গীতের কারণে নয়। বিশ্বব্যাপী ‘অল অ্যাবাউট দ্যাট বেস’ ও ‘ডিয়ার ফিউচার হাসব্যান্ড’ সহ একাধিক চার্ট-বেস্টার হিটের জন্য পরিচিত এই ৩২ বছর বয়সী পপ তারকা, এবার নিজের স্বাস্থ্য এবং জীবনধারার চমকপ্রদ পরিবর্তনের গল্পে ভক্তদের মুগ্ধ করেছেন। জানা গেছে, তিনি দ্বিতীয়বারের গর্ভধারণের সময় গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৬০ পাউন্ড, অর্থাৎ প্রায় ২৭ কেজি ওজন কমিয়েছেন।
মেগান জানিয়েছেন, এই যাত্রা শুরু হয়েছিল তাঁর দ্বিতীয় গর্ভাবস্থার সময়। তিনি স্মৃতিচারণ করে বললেন, “আমি বুঝতে পেরেছিলাম, যদি আমি জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত পুরোপুরি উপভোগ করতে চাই, ট্যুর চালিয়ে যেতে চাই এবং আমার সন্তানদের সুস্থভাবে বড় করতে চাই, তবে প্রথমেই আমাকে নিজের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে। আমি চাইতাম শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী হই।”
দুই সন্তানের মা মেগান—৪ বছর বয়সী রাইলি ও ২ বছর বয়সী ব্যারি—পরিবার, সন্তান লালন-পালন এবং স্বামী ড্যারিল সাবারা’র সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছেন, পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও হরমোনের যত্নেও সচেতন। তিনি বলেন, “আমি আমার হরমোন এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে খুব যত্নশীল।”
ন্যানটাকেট, ম্যাসাচুসেটসে জন্ম নেওয়া মেগান মাত্র ১১ বছর বয়সে গান লেখা শুরু করেছিলেন। প্রথমে নিজের রচনা পরিবেশন করতেন, নিজেকে মূলত গীতিকার হিসেবে ভাবতেন, কিন্তু পরে পারফর্মার হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
মেগানের এই পরিবর্তন যদিও প্রশংসার সঙ্গে এসেছে, তবুও তিনি পাবলিক সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, “নিজের পরিবর্তন প্রথমবার দেখার অভিজ্ঞতা অসাধারণ ছিল, কিন্তু হঠাৎ এত নেতিবাচক মন্তব্য শুনে বিস্মিত হয়েছিলাম।” মেগান থেরাপি এবং সঙ্গীতের মাধ্যমে এই নেতিবাচকতার মোকাবিলা করেছেন, যার মধ্যে তাঁর সর্বশেষ সিঙ্গেল ‘STOOL Don’t Care’ মূলত আত্ম-আবিষ্কার ও স্থিতিশীলতার গল্প বলে।
পরবর্তী সময়ে মেগান ও ড্যারিল স্বাস্থ্য ও ফিটনেসকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ও নিয়মিত রুটিন মেনে চলছেন। সপ্তাহে তিনবার জিমে যাওয়া, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং কফি সেবনে নিয়ন্ত্রণ—এই সবই মেগানের স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রমাণ।
মেগান বলেন, “আমি এখন সত্যিই অসাধারণ বোধ করি। নিজেকে ভালোবাসতে শিখেছি, এবং এটা বলার কোনো লজ্জা নেই।” তাঁর স্পষ্টবাদিতা, শৃঙ্খলা এবং আত্মপ্রেম কেবল ভক্তদের অনুপ্রাণিত করেছে না, বরং শক্তিশালী বার্তাও দিয়েছে: জীবনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে থেকেও ব্যক্তিগত পরিবর্তন সম্ভব।