Khaborwala Online Desk
প্রকাশ: সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
মার্কিন রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে পররাষ্ট্রনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন বাইডেন সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া প্রায় ৩০ জন রাষ্ট্রদূতকে তাদের বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে ২৯টি দেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তাদের বিদেশি মিশনে অবস্থানের মেয়াদ আগামী জানুয়ারিতে শেষ হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প প্রশাসনের বহুল আলোচিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন মেয়াদে ট্রাম্প এমন কূটনীতিকদের নিয়োগ দিতে চান, যারা তার রাজনৈতিক দর্শন, নিরাপত্তা নীতি এবং বৈদেশিক অগ্রাধিকারের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে একমত। ফলে বাইডেন-যুগে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের একটি বড় অংশকে সরিয়ে নতুন মুখ আনার প্রস্তুতি চলছে।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, এসব রাষ্ট্রদূত ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে সাময়িকভাবে দায়িত্বে বহাল ছিলেন। তবে সম্প্রতি ওয়াশিংটন থেকে তাদের কাছে নতুন নির্দেশনা পৌঁছেছে, যার মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে—বর্তমান দায়িত্বের মেয়াদ আর বাড়ানো হচ্ছে না। যদিও এই প্রত্যাহারকে চাকরিচ্যুতি হিসেবে দেখানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রদূতরা চাইলে ভবিষ্যতে পররাষ্ট্র দপ্তরের অন্য কোনো দায়িত্বে পুনর্নিয়োগ পেতে পারেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই রদবদলের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে আফ্রিকা মহাদেশে। সেখানে ১৩টি দেশের রাষ্ট্রদূত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি এশিয়ার ৬টি দেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূতকেও প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকাতেও সীমিত আকারে পরিবর্তন আসতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রদূত পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতা বদলের সঙ্গে সঙ্গে কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্বে রদবদল নতুন কিছু নয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সিদ্ধান্তের পরিসর ও সময় নির্বাচন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত ও দৃশ্যমানভাবে নিজের নীতি বাস্তবায়নে এগোতে চায়।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে কূটনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কয়েকজন সাবেক কূটনীতিক ও রাজনীতিবিদ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, একসঙ্গে এতজন অভিজ্ঞ রাষ্ট্রদূতকে সরিয়ে দিলে বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে আফ্রিকা ও এশিয়ার মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।
অন্যদিকে প্রশাসনের ঘনিষ্ঠরা যুক্তি দিচ্ছেন, রাষ্ট্রদূতরা মূলত প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। তাই কোন দেশে কাকে পাঠানো হবে, সেটি পুরোপুরি প্রেসিডেন্টের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। তাদের মতে, ট্রাম্প তার নীতির প্রতি আস্থাশীল প্রতিনিধিদের দিয়েই বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রকে তুলে ধরতে চান।
সব মিলিয়ে, এই রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং এটি ট্রাম্প প্রশাসনের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির দিকনির্দেশনা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।