খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকরী করার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রাম–দোহাজারী রেলপথ উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ৬৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে। এই অর্থায়ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেল সংযোগকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও কার্যকরী নেটওয়ার্কে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে ব্যবহৃত হবে।
২২ ডিসেম্বর ঢাকা-স্থিত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) কার্যালয়ে ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ সরকারপক্ষে ইআরডি সচিব মোঃ শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিক স্বাক্ষর করেন, আর এডিবি বাংলাদেশ দেশ পরিচালক হো ইয়ং জং ব্যাংকের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। কর্মকর্তারা এই প্রকল্পকে দেশের রেল অবকাঠামোর আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এই প্রকল্পটি “দক্ষিণ এশিয়া উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (SASEC) চট্টগ্রাম–দোহাজারী রেল প্রকল্প”-এর অন্তর্ভুক্ত। এতে বিদ্যমান ৩৫ কিলোমিটার রেলপথের পুনর্বাসন ও আধুনিকীকরণ এবং ২.৫ কিলোমিটার নতুন বাইপাস ট্র্যাক নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নতুন বাইপাস ট্র্যাক চালু হলে ঢাকা ও কক্সবাজারগামী ট্রেনগুলো চট্টগ্রাম স্টেশন এড়িয়ে চলতে পারবে, যা ট্রাফিক ঘনত্ব কমাবে ও যাত্রা সময় উল্লেখযোগ্যভাবে সংক্ষিপ্ত করবে।
বর্তমানে ঢাকা–চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেলপথ দেশীয় যাত্রী পরিবহণের প্রায় ৩২% এবং পণ্য পরিবহণের ৫৫% অংশ পরিচালনা করে। এই করিডোরের সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে সরাসরি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, উন্নত রেল যোগাযোগের মাধ্যমে পরিবহন খরচ হ্রাস, সরবরাহ চেইনের নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি পাবে।
কক্সবাজার অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের জন্যও এই প্রকল্পের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। রেল যোগাযোগের আধুনিকীকরণ নতুন পর্যটন, মৎস্য ও রপ্তানি ভিত্তিক শিল্পকে এগিয়ে নেবে, সড়কজট কমাবে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস করবে এবং কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।
এডিবি আরও জানিয়েছে, প্রকল্পটি রেল সেবার নির্ভরযোগ্যতা ও দুর্যোগ সহনশীলতা বৃদ্ধি করবে, পরিবেশবান্ধব পরিবহন প্রচার করবে এবং ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আঞ্চলিক সংযোগ দৃঢ় করবে, ফলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে।
প্রকল্পের মূল উপাদানসমূহ
| উপাদান | বিবরণ |
|---|---|
| রেলপথ উন্নয়ন | ৩৫ কিমি রেলপথের আধুনিকীকরণ ও পুনর্বাসন |
| নতুন নির্মাণ | ২.৫ কিমি বাইপাস ট্র্যাক নির্মাণ |
| অবকাঠামো | দ্বৈত-গেজ ট্র্যাক স্থাপন |
| প্রযুক্তি | উন্নত সিগন্যালিং ও ড্রেনেজ সিস্টেম |
| রোলিং স্টক | ৩০টি পরিবেশবান্ধব, শক্তি-দক্ষ লোকোমোটিভ |
| স্টেশন উন্নয়ন | তিনটি স্টেশনের আধুনিকীকরণ |
| মানবসম্পদ | বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন |
১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এডিবি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নকে সমর্থন করে আসছে। বাংলাদেশে এই নতুন বিনিয়োগ দেশের রেল খাতের আধুনিকীকরণ, পরিবহন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে।