খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) উন্মাদনা শুরু হতে না হতেই সিলেট টাইটানস শিবিরে বইছে আনন্দের হাওয়া। বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা বাঁহাতি পেসার মোহাম্মদ আমির গতকাল রাতে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছেন এবং আজ সকালেই যোগ দিয়েছেন দলের অনুশীলনে। পাকিস্তানের এই অভিজ্ঞ বোলারকে ড্রেসিংরুমে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সিলেটের দেশি পেসাররা। বিশেষ করে ইবাদত হোসেনের কণ্ঠে ঝরেছে আমিরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বিপিএলে প্রথমবার রাজত্ব করার স্বপ্ন।
মোহাম্মদ আমিরকে কেবল একজন খেলোয়াড় হিসেবে নয়, বরং দলের বোলিং ইউনিটের অভিভাবক হিসেবে দেখছে সিলেট। আজ মিরপুরের একাডেমি মাঠে অনুশীলন শেষে ইবাদত হোসেন গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আমিরের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। তিনি জানান, আমিরের মতো একজন কিংবদন্তির কাছ থেকে শেখার যেমন সুযোগ আছে, তার চেয়েও বড় বিষয় হলো মাঠের ক্রিকেটে তাঁর প্রখর বুদ্ধিমত্তা ও অভিজ্ঞতা দলের সাফল্যের জন্য কতটা জরুরি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা আমিরের ঝোলায় রয়েছে প্রচুর, যা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সিলেটকে সাহায্য করবে।
নিচে মোহাম্মদ আমিরের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সংক্ষিপ্ত চিত্র এবং সিলেট টাইটানসের বর্তমান বোলিং শক্তি তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | পরিসংখ্যান / বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| টি-টোয়েন্টি ম্যাচ | ৩৪৮টি (প্রায় সারা বিশ্বের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ) |
| মোট উইকেট সংখ্যা | ৪৫০টির বেশি (স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে) |
| সিলেটের প্রধান পেসাররা | মোহাম্মদ আমির, ইবাদত হোসেন, খালেদ আহমেদ |
| সিলেটের সাপোর্টিং পেসার | শহিদুল ইসলাম, রেজাউর রহমান রাজা |
| এবারের আসরের স্লোগান | ‘এবার কিন্তু অইজিবো’ (সিলেটি ভাষায়—এবার হবেই) |
| প্রধান লক্ষ্য | বিপিএলে প্রথম শিরোপা জয় |
ইবাদত হোসেনের মতে, আমিরের আগমনে সিলেটের বোলিং বিভাগ এখন আসরের অন্যতম শক্তিশালী ইউনিটে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের বোলিং লাইনআপ আলহামদুলিল্লাহ বেশ ভালো। আমির ভাইয়ের মতো পারফর্মার দলে থাকলে চাপ অনেক কমে যায়। এছাড়া আমি, খালেদ, শহিদুল এবং রাজা—আমরা সবাই ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরীক্ষিত। সবাই যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী মাঠে সেরাটা দিতে পারি, তবে ইনশাআল্লাহ আমরা চ্যাম্পিয়ন হব।”
বিপিএলের ইতিহাসে সিলেট ফ্র্যাঞ্চাইজি বেশ কয়েকবার মালিকানা পরিবর্তন করলেও এখনো ট্রফির ছোঁয়া পায়নি। গত আসরগুলোতে খুব কাছ থেকে ফিরে আসতে হয়েছে তাদের। তবে এবার ‘এবার কিন্তু অইজিবো’—এই স্থানীয় স্লোগানকে সামনে রেখে নতুন উদ্যমে মাঠে নামছে তারা। এই থিম বা স্লোগানটি দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে এক ধরনের ইতিবাচক শক্তি বা ‘পজিটিভ ভাইব’ তৈরি করেছে বলে জানান ইবাদত। তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক সময়ে দলের বিদেশিদের অন্তর্ভুক্তি এবং দেশি ক্রিকেটারদের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সিলেটের শিরোপার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে।
মোহাম্মদ আমির নিজেও অনুশীলনে বেশ মনোযোগী ছিলেন। পাওয়ার প্লেতে রান আটকানো এবং ডেথ ওভারে নিখুঁত ইয়র্কার মারার সামর্থ্য তাঁর এখনো বিশ্বমানের। সিলেটের তরুণ পেসাররা আমিরের কাছ থেকে নিয়মিত পরামর্শ নিচ্ছেন যা দীর্ঘ টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সিলেটের ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন মাঠের ক্রিকেটে আমির-ইবাদত জুটির বিধ্বংসী বোলিং দেখার জন্য।