খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় পোশাক কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় চার জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা আক্তার তমার সামনে তাঁরা তাদের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেন।
স্বীকারোক্তি দেওয়া আসামিরা হলেন তারেক হোসেন (১৯), মানিক মিয়া (২০), নিজামুল হক (২০) ও আজমল ছগীর (২৬)। তারা সবাই ভালুকার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ডুবালিয়াপাড়া এলাকার পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার কর্মী।
ময়মনসিংহ পুলিশ সূত্র জানায়, নিহত দীপু চন্দ্র দাসের ভাই অপু চন্দ্র দাস গত ১৮ ডিসেম্বর রাতের ঘটনার পর অজ্ঞাতপরিচয় ১৪০–১৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ধর্ম অবমাননার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই রাতে দীপুকে ধরে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, শুক্রবার পর্যন্ত র্যাব সাতজন ও পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। ২২ ডিসেম্বর তাদের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর বৃহস্পতিবার চার জন আদালতে স্বীকারোক্তি দেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তারা ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের নামও জানিয়েছে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আসামিরা আদালতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। যদিও তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়, তবে তারা নিজেরাই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা স্বীকার করেছেন।”
পুলিশ জানিয়েছে, আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগামীকাল তাঁদের রিমান্ডে নেওয়া হবে। এই ঘটনার মাধ্যমে পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন তৎপরতার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
| নাম | বয়স | অবস্থান | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| তারেক হোসেন | ১৯ | ডুবালিয়াপাড়া, ভালুকা | স্বীকারোক্তি দিয়েছেন |
| মানিক মিয়া | ২০ | ডুবালিয়াপাড়া, ভালুকা | স্বীকারোক্তি দিয়েছেন |
| নিজামুল হক | ২০ | ডুবালিয়াপাড়া, ভালুকা | স্বীকারোক্তি দিয়েছেন |
| আজমল ছগীর | ২৬ | ডুবালিয়াপাড়া, ভালুকা | স্বীকারোক্তি দিয়েছেন |
| আলমগীর হোসেন | ৩৮ | কারখানা ফ্লোর ইনচার্জ | আগামীকাল আদালতে হস্তান্তর |
| মিরাজ হোসেন | ৪৬ | কোয়ালিটি ইনচার্জ | আগামীকাল আদালতে হস্তান্তর |
| অন্যান্য ৬ জন | — | — | বুধবার রাতে গ্রেপ্তার, রিমান্ড প্রক্রিয়াধীন |
এই ঘটনার মাধ্যমে ময়মনসিংহ পুলিশ হত্যা মামলা দ্রুততম সময়ে সমাধান করার জন্য তৎপর, এবং গ্রেপ্তারকৃতদের স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের চিহ্নিত করা হবে।